রমজান মাসের আগমনে নিত্যপণ্যের বাজারে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিছু পণ্যের দাম কমলেও বেশ কয়েকটির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। বাজারে পণ্যের দাম বাড়ানোর কারণে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সিন্ডিকেট এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দ্রব্যমূল্যের চাপ বেড়েছে। গত বছর রমজানে অনেক নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় ছিল, কিন্তু এবার সেই পরিস্থিতি বদলেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বন্দর ধর্মঘট এবং নির্বাচনের ছুটির কারণে সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রমজানে প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।
রমজানে সাধারণত ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল, পেঁয়াজ, আটা ও খেজুরের চাহিদা বাড়ে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রমজান মাসে সয়াবিন তেলের চাহিদা ৩ লাখ টন, চিনির ৩ লাখ টন, এবং ছোলার ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সব পণ্যের ২৫ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত মজুত রয়েছে।
বাজারে গত বছরের তুলনায় ছোলার দাম কমে ৯০ টাকা হলেও মসুর ডাল ও এঙ্কর ডালের দাম বেড়েছে। গত বছর মসুর ডালের দাম ১৩৫ টাকা ছিল, যা বর্তমানে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেলের দাম ১৭৫ থেকে ১৯৫ টাকায় উঠেছে এবং পেঁয়াজের দাম ৬০ টাকায় পৌঁছেছে।
এদিকে, ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকায় রয়ে গেছে। তবে সোনালী মুরগির দাম ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খেজুরের দামও বেড়েছে, সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া জাহিদী খেজুর প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের দ্রুত নজর দেওয়া জরুরি। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের কারণে বাজারজাতকরণে ব্যত্যয় ঘটেছে। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে ও বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে।
