জাতীয় দলে খেলার সময় রাজনীতিতে নাম লেখান সাকিব আল হাসান এবং সংসদ সদস্য হন। তার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি সংসদ সদস্য পদ হারান এবং রাজনৈতিক কারণে দেশে ফিরতে পারছেন না। দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কাউকে বাদ দিয়ে বা দূরে সরিয়ে রেখে দেশে প্রকৃত স্বস্তি ফিরে আসবে না।
২০২৪ সালে আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা হয়। অন্তর্বতী সরকারের সেই আদেশ এখনো বহাল আছে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রসঙ্গে বিএনপি সরকারের উদ্দেশে সাকিব বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার মনে হয় তাদের অনেক বড় দায়িত্ব হচ্ছে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। সবাইকে নিয়ে যদি কাজ করতে পারে তবেই সমস্যা থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হতে পারবে। কাউকে দূরে সরিয়ে রেখে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আমি মনে করি না। আর গণতান্ত্রিক ধারাতেও এটা হয় না। আশা করি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে সব।’
নিজের রাজনৈতিক দল প্রসঙ্গে সাকিব জানান, বর্তমানে দলের কার্যক্রম না থাকায় তিনি ক্রিকেটে মন দিয়েছেন। তবে ভবিষ্যতে সুযোগ এলে আবারও রাজনীতিতে ফেরার ইচ্ছা তার আছে। সাকিবের ভাষায়, ‘যেহেতু আমাদের দলের কার্যক্রম নাই সেহেতু চেষ্টা করছি ক্রিকেটটা খেলে যাওয়ার। দলের যখন কার্যক্রম যখন শুরু হবে বা আমরা করতে পারব তখন হয়ত আবার চেষ্টা করব রাজনীতিটা করার।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি আশা করছি ভবিষ্যতে একটি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে যেখানে সব দল সমান সুযোগ পাবে এবং জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে চায়।’
ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে থাকলেও রাজনীতির ময়দানে নিজেকে দীর্ঘমেয়াদী খেলোয়াড় হিসেবেই দেখছেন সাকিব। রাজনীতিতে স্বল্প সময়ের উপস্থিতিকে তিনি দেখছেন অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে। সাকিবের মতে, ‘রাজনীতি তো ধরেন আমৃত্যু করা যায়, রাজনীতিতে অনেক সময় আছে। যেটার সময় নেই সেটা হলো ক্রিকেট। এটা আগে ঠিক করার চেষ্টা করছি। রাজনীতি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম যেখান থেকে বড় ধরণের পরিবর্তন আনা সম্ভব।’
পেশাদার খেলোয়াড়দের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার বিষয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া আহ্বানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েও সাকিব বলেন, ‘দেখুন আমার কাছে মনে হয় প্রতিটা বাংলাদেশের নাগরিকের এই ব্যাপারে নিজস্ব মতামত আছে। প্রধানমন্ত্রী উনার জায়গা থেকে যেটা ভালো মনে হয়েছে বলেছেন। এটা ওনার ব্যক্তিগত মতামত এবং আমি সেটিকে সম্মান করি।’
