বিসিবি নির্বাচন তদন্ত শেষ, কমিটির ডাকে হাজির হননি আসিফ মাহমুদ

বিসিবি নির্বাচন তদন্ত শেষ, কমিটির ডাকে হাজির হননি আসিফ মাহমুদ

গত বছরের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনে অনিয়ম তদন্তে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি তাদের কাজ শেষ করেছে। রোববার তারা এনএসসিতে প্রতিবেদন জমা দেয়, তবে এই কমিটির ডাকে সাড়া দেননি তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এই কমিটি এনএসসি সদর দপ্তরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সেলিম ফকির এবং এনএসসি-র ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসানের কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিচারপতি আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘তদন্ত শেষ করে তদন্ত জমা দেওয়ার জন্য এসেছিলাম আজকে। জমা দিয়ে গেলাম। নিরপেক্ষভাবে চেষ্টা করেছি আমরা, যাদের যাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছিলাম, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কাউকে অভিযুক্ত না করে, নিরপেক্ষভাবে যা নির্বাচন সংক্রান্ত যা পেয়েছি, সে সম্বন্ধে রিপোর্ট দিয়ে গেলাম। রিপোর্ট দেখলে আপনারা সব বুঝতে পারবেন এর মধ্যে কী আছে না আছে। আমরা কাউকে অভিযুক্ত করিনি। আমরা নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন সম্পর্কে আলোচনা করে রিপোর্ট করেছি।’

সুপারিশের বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান বলেন, কমিটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উন্নতির জন্য কিছু পদক্ষেপের প্রস্তাব করেছে। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা কিছু সুপারিশ দিয়েছি, যেমন—একটি গাইডলাইন তৈরি করা এবং বোর্ডের ভেতরে কোনো সংস্কার প্রয়োজন কি না সে বিষয়ে আমরা আমাদের মতামত দিয়েছি।’

আসাদুজ্জামান জানান তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া দেননি সেসময় ক্রীড়া উপদেষ্টা, ‘আসলে ডেকেছিলাম বলতে, আসলে উনার কোন বক্তব্য বা উনি কিছু বলতে চান কি না, সেজন্য। উনাকে “অ্যাকিউজ” করার জন্য না। উনাকে সময় দিয়ে ডাকা হয়েছিল, উনি আমাদের কাছে আসেননি।’

এদিকে তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ফেসবুকে পোস্ট দেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমি কেন বিসিবি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারে সাড়া দেইনি: প্রথমত, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিসিবির ওপর এখতিয়ার বহির্ভূত ভাবে তদন্ত করছে মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয়ত, তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয়ে তদন্ত করে তদন্ত কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সকলে আদালত অবমাননা করছেন। চতুর্থত, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ড ডিরেক্টরদের পরের বোর্ডে ডিরেক্টর পদের লোভ, লোভে রাজি না হলে ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করাচ্ছেন।’

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘যখন আমাকে তদন্ত কমিটি থেকে সাক্ষাৎকাদের বিষয়ে জানানো হলো, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয় এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তারা তদন্ত করতে পারেন কি না জানতে চেয়ে কোন সদুত্তর পাইনি। কীভাবে সরকার চালাতে হয়, কীভাবে প্রজ্ঞাপন দিতে হয়, কোনটা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, কোনটা বিচারাধীন বিষয়, কোনটা আদালত অবমাননা এটা হয়তো আপনারা বোঝেন না অথবা তোয়াক্কা করেন না। আমি তো আর জেনে-বুঝে এসব নিয়মবহির্ভূত আর আদালত অবমাননার মতো কাজে শামিল হব না। এজন্যই বিসিবি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারের নোটিশে আমি সাড়া দেইনি।’

তবে তদন্ত কমিটির প্রধান জানান তারা আলোচনার জন্যই ডেকেছিলেন, ‘আমরা জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি করিনি। কোনো অ্যাকিউজ করিনি, কোন চার্জ ফ্রেম করনি আমরা কাউকে অভিযুক্ত করে কাউকে তার বিরুদ্ধে আমরা ক্রিমিনাল ট্রায়ালে যেমন ৩৪২ এর মাধ্যমে নিয়ে আসতে হয়, জানতে হয়, আমরা এই প্রক্রিয়ায় যাইনি। এটা আমাদের সিস্টেমে ছিল না। আমরা তদন্ত করে দেখছি সিস্টেমগতভাবে আইনে যেভাবে বলা আছে, সেভাবে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কী হয়নি, এইটুকুই আমরা রিপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আর কিছু না। আমরা যেগুলো জিনিস পেয়েছি… সিস্টেম অনুযায়ী যা আছে, সেভাবে যা হয়েছে কি হয়নি, সেটুকু আমরা রিপোর্ট করার চেষ্টা করেছি।’

আরও পড়ুন