ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৩টি দল অংশ নিয়েছে। ১৯৩০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২২টি আসরে ৮০টি দল মূল পর্বে খেললেও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে পৌঁছাতে পেরেছে ব্রাজিল, জার্মানি, ইতালি, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, উরুগুয়ে, স্পেন, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, চেকোস্লোভাকিয়া, ক্রোয়েশিয়া, হাঙ্গেরি ও সুইডেন।
এই ১৩টি দলের মধ্যে আটটি দল বিশ্বকাপ জিতেছে। ব্রাজিল পাঁচবার, জার্মানি চারবার, ইতালি চারবার, আর্জেন্টিনা তিনবার, ফ্রান্স দুইবার, উরুগুয়ে দুইবার, স্পেন একবার ও ইংল্যান্ড একবার শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছে।
১৯৫০ সালের আসরে কোনো ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। সে বছর চার দলের ফাইনাল রাউন্ড আয়োজিত হয়েছিল, যেখানে রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে উরুগুয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মধ্যকার শেষ ম্যাচটি অঘোষিত ফাইনাল হিসেবে বিবেচিত হয়।
জার্মানি আটবার ফাইনাল খেলে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণের রেকর্ড ধরে রেখেছে। ব্রাজিল সাতবার, ইতালি ও আর্জেন্টিনা ছয়বার করে ফাইনালে খেলেছে। ব্রাজিল পাঁচবার জয়ী হয়ে সবচেয়ে সফল দল, আর জার্মানি চারবার হেরে সবচেয়ে বেশি পরাজয়ের রেকর্ড গড়েছে।
আর্জেন্টিনা ও জার্মানি তিনবার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনা জয়ী হলেও ১৯৯০ ও ২০১৪ সালে জার্মানি শিরোপা জিতেছে।
এখন পর্যন্ত ২১টি ফাইনালের মধ্যে আটটি ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। ১৯৩৪ সালে প্রথমবারের মতো ইতালি বনাম চেকোস্লোভাকিয়া ফাইনালে অতিরিক্ত সময় খেলা হয়। ১৯৯৪ সালে ব্রাজিল বনাম ইতালি ফাইনালে প্রথমবারের মতো পেনাল্টি শুটআউটে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হয়।
১৯৫৮ সালের ফাইনালে সর্বোচ্চ সাতটি গোল হয়, যেখানে ব্রাজিল সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারায়। ১৯৯৪ সালের ব্রাজিল বনাম ইতালি ফাইনাল গোলশূন্য থেকে একমাত্র ফাইনাল হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে।
শুধুমাত্র ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। ইউরোপীয় দলগুলো ২৯ বার অংশ নিয়ে ১২ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, আর দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো ১৫ বার খেলে ১০ বার শিরোপা জিতেছে।
ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে ফাইনালে সর্বোচ্চ চারটি গোল করার রেকর্ড গড়েছেন। পেলে, ভাভা, জিনেদিন জিদান ও জিওফ হার্স্ট তিনটি করে গোল করেছেন। ভাভা, পেলে, পল ব্রেইটনার, জিদান ও এমবাপে দুটি ভিন্ন আসরের ফাইনালে গোল করেছেন।
ব্রাজিলের কাফু একমাত্র ফুটবলার যিনি তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন। লুইস মন্তি একমাত্র খেলোয়াড় যিনি দুটি ভিন্ন দলের হয়ে ফাইনাল খেলেছেন। মারিও জাগালো, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ও দিদিয়ের দেশম খেলোয়াড় ও কোচ উভয় ভূমিকায় ফাইনাল জয়ের কীর্তি গড়েছেন।
এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে দুটি ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বকাপ ফাইনালে এখন পর্যন্ত পাঁচজন খেলোয়াড় লাল কার্ড পেয়েছেন।
