আইন মন্ত্রণালয়ের কাজের হিসাব দিলেন আসিফ নজরুল

আইন মন্ত্রণালয়ের কাজের হিসাব দিলেন আসিফ নজরুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীরা আগামীকাল শপথ গ্রহণ করবেন। এর মধ্য দিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ। তাই দায়িত্ব ছাড়ার আগে নিজের কাজের হিসাব দিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি জানিয়েছেন, গত দেড় বছরে বিভিন্ন সংস্কার ও কার্যক্রম আইন মন্ত্রণালয়ের টিমওয়ার্কের ফল, ব্যক্তিগত কৃতিত্বের নয়।

রোববার রাতে তার কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনার জবাবে ফেইসবুকে দীর্ঘ পোস্ট দেন তিনি। তার ভাষ্য, ভাই, আমি কিছু করিনি। করেছে আমাদের আইন মন্ত্রণালয়। তবে এর প্রতিটি কাজে আমি অংশীদার ছিলাম। তিনি লেখেন, আমাদের এই টিমওয়ার্কে কোন ফাঁকি ছিল না। আমি জানি তারপরও সমালোচনা করতে কারো কারো ভালো লাগবে। সেটা করেন, সমস্যা নাই। তবে আমার একান্ত অনুরোধ তার আগে, কী কী কাজ করা হয়েছে তা একটু জেনে নিন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এগুলো হলো ২২ টি আইনি সংস্কার, ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন, ২৪, ২৭৬টি হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহার, গণহত্যার বিচার ব্যবস্থাপনা এবং প্রায় তিনগুণ পরিমাণে দৈনন্দিন কার্যক্রম বৃদ্ধি।

আইনি সংস্কারের মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশ, সুপ্রীম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, দেওয়ানি কার্যবিধিতে সংশোধন, ফৌজদারি আইনে সংস্কার, মামলা-পূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার বিধান সংযোজন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংস্কার, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালায় সংশোধনী এবং বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা সংশোধন। এছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, পুলিশ সংস্কার কমিশন অধ্যাদেশ, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনীসহ বিভিন্ন আইনে অধ্যাদেশ প্রণয়নে আইন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহকে সহযোগিতা প্রদান করেছে।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশনের মধ্যে রয়েছে জুডিসিয়াল সার্ভিসের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন, কেন্দ্রীয়ভাবে আদালতের কর্মচারী নিয়োগ, দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রম, প্রসিকিউশন মনিটরিং সেল গঠন এবং বিচার কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন।

আরও পড়ুন