তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের প্রথম পদক্ষেপগুলো দেখলে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান গতির চেষ্টা স্পষ্ট হয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচন পরবর্তী প্রতিশ্রুতিগুলো ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারায়, কিন্তু বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে ভিন্ন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গণভোটের পর সরকারের একাধিক নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ১০ মার্চ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে, যার উদ্দেশ্য নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে একটি সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর আওতায় আনা। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভাতা থাকলেও সেগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল, যা এই কর্মসূচির মাধ্যমে পূরণ হবে।
১৪ মার্চ সরকার ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছে। দেশের হাজার হাজার মসজিদে দায়িত্ব পালনকারী ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ছিল। সরকারের এই উদ্যোগকে অনেকেই সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ৫৩টি খালের খনন শুরু হবে, যা কৃষি ও জীবিকার সঙ্গে খালের সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করবে।
খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি বাংলাদেশের জলব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খালগুলো পুনরুদ্ধার হলে বর্ষার পানি নিষ্কাশন ও শুষ্ক মৌসুমে সেচের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করবে।
নতুন সরকারের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। সরকার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের জন্য ডেপুটি স্পিকারের পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, যদিও বিরোধী দল সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।
এছাড়া প্রশাসনিক কার্যক্রমে কিছু প্রতীকী পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেমন মন্ত্রীদের মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন ও কার্যক্রম তদারকি। বর্তমান সরকারের পদক্ষেপগুলো জনমনে আশাব্যঞ্জক বার্তা তৈরি করেছে, যদিও দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নিশ্চিত করার জন্য আরও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।
বাংলাদেশের জনগণ একটি জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী সরকার প্রত্যাশা করে, যা সহজ কাজ নয়। তবে নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের রাজনীতি নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপনের পথে যাত্রা শুরু করতে পারে।
