মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় দাম্পত্য কলহের জেরে সখিনা বেগম (৫০) নামের এক গৃহবধূকে শরবতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী ও সতীনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বড় পয়লা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন, নিহত গৃহবধূর স্বামী বড় পয়লা গ্রামের সাইফুল ইসলাম এবং তার তৃতীয় স্ত্রী সাবিনা আক্তার। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সাইফুল ইসলাম তৃতীয় বিয়ে করেন।
বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী সখিনার সঙ্গে তৃতীয় স্ত্রী সাবিনার কলহ চলে আসছিল। এই কলহের জেরে গতকাল সোমবার রাত থেকেই সখিনার ওপর নির্যাতন চালায় সাইফুল ও সাবিনা।
আজ সকালে সখিনাকে কৌশলে পানির বদলে বিষমিশ্রিত শরবত পান করান সাইফুল ও সাবিনা। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সখিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সখিনার মেয়ে যুথী আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তার বাবা ও সৎ মা শরবতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তার মাকে খাওয়ায়। এর কিছুক্ষণ পরই মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক তার মাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন তিনি।
ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে দুপুরে গৃহবধূর স্বামীর বাড়ি থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহত গৃহবধূর স্বামী সাইফুল ও সতীন সাবিনাকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শরবতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ানোর কারণে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিহতের স্বজনেরা জানিয়েছেন। এ ঘটনা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।
