ঢালিউডে পাইরেসির সমস্যা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে ঈদের বড় ছবি ‘রকস্টার’ মুক্তির এক সপ্তাহের মধ্যেই পাইরেটেড সংস্করণ বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেল ও ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে ‘সুড়ঙ্গ’ এবং ২০২২ সালে ‘তাণ্ডব’ ছবিও পাইরেসির শিকার হয়েছিল।
নির্মাতা ও প্রযোজকরা জানাচ্ছেন, সিনেমা হলের স্থানীয় সার্ভার ও প্রযুক্তিগত সমস্যা পাইরেসির জন্য দায়ী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দর্শকদের সচেতনতা ও সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। পাইরেসি বন্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হলেও নির্মাতাদের মতে, দর্শকদের হলে গিয়ে আসল কপি দেখার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
‘রকস্টার’-এর পরিচালক আজমান রুশো বলেন, “পাইরেসি একটি ধ্বংসযজ্ঞ, যা ব্যবসায় ক্ষতি করে। সিনেমা হল থেকে ভিডিও করে পাইরেসি ঘটানো হচ্ছে।” তিনি এই বিষয়ে সিআইডিতে মামলা দায়ের করেছেন।
‘তাণ্ডব’ নির্মাতা রায়হান রাফী বলেন, “পাইরেসি হয়ে গেলে সিনেমার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। আমরা মামলা করেছি, কিন্তু আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে হবে।” আলফা আই স্টুডিওসের কর্ণধার শাহরিয়ার শাকিল জানান, “আমাদের প্রযুক্তি এখনো আন্তর্জাতিক মানের নয়, যা পাইরেসি রোধে ব্যাহত করছে।”
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা হলের পরিচালক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, “পাইরেটেড সিনেমা দেখে দর্শক হলে আসবে না। আমাদের দুই ঈদে কোনো আয় হয়নি।” অন্যদিকে, স্টার সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, তাদের সিনেপ্লেক্সে পাইরেসির প্রভাব কম।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জল জানান, “হল থেকে পাইরেসি হওয়া সম্ভব নয়; সার্ভার থেকে এটি হতে পারে।” আইনজীবী মো. রিয়াজুর রহমান রায়হান বলেন, “কপিরাইট আইন থাকা সত্ত্বেও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে পাইরেসি রোধ কঠিন।”
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে পাইরেসির এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তারা বলেন, “রাইটস ম্যানেজমেন্ট ও কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের ব্যবহার মাধ্যমে নির্মাতারা তাদের স্বত্ব সংরক্ষণ করতে পারবেন।”
