সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনামলে ইরানে বিভিন্ন সংকটের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ১৯৮৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর খামেনি ইরাকের সঙ্গে আট বছরের যুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে মনোনিবেশ করেন, যেখানে এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ নিহত হয় এবং দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়।
নব্বইয়ের দশকে ইরানের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ অপরিহার্য হয়ে পড়ে, যখন ইসলামি বিপ্লবের উদ্দীপনা কমতে থাকে। ১৯৯৭ সালে সংস্কারপন্থী মোহাম্মদ খাতামির নির্বাচনী বিজয় জনমতের পরিবর্তনকে চিত্রিত করে। খাতামি পশ্চিমের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ শুরু করলেও খামেনির সংশয় এবং অবিশ্বাস অব্যাহত ছিল।
খামেনি আধা-সামরিক বাহিনীর মধ্যে নতুন প্রজন্মের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করে তাদের নেতৃত্বে আসার সুযোগ সৃষ্টি করেন। ২০০৯ সালে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিক্ষোভে যুব সদস্যদের ব্যবহার করা হয়, যা ‘গ্রিন মুভমেন্ট’ নামে পরিচিত।
২০১৫ সালে খামেনি পশ্চিমের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন এবং ‘জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ স্বাক্ষর করেন, কিন্তু ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে ইরানে অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকে।
২০১৯ সালে সরকারি পেট্রোলের দাম বাড়ানোর পর ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে নৃশংসতার অভিযোগ ওঠে। ২০২২ সালে মাশা আমিনির মৃত্যুতে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়, যার ফলে খামেনির বিরুদ্ধে সমালোচনা বৃদ্ধি পায়।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। খামেনি এই সংকটকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন এবং পশ্চিমা দেশগুলোকে অভিযুক্ত করছেন।
বর্তমানে দেশের অর্থনীতি চরম সংকটে রয়েছে এবং জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেতে ইরানকে কঠিন আপস করতে হবে, নাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় গণজাগরণের মুখোমুখি হতে হবে।
