মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত মিলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘আগামী দুই দিনের মধ্যেই’ নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে।
নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাকিস্তান একটি সম্ভাব্য আলোচনার কেন্দ্র হতে পারে। এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক, যেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ অংশগ্রহণ করেছিলেন। যদিও বৈঠকটি কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হয়নি, তবে এটি ভবিষ্যতের আলোচনার ভিত্তি হতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান ও পাকিস্তানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনা শুরুর বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ১৯৯৩ সালের পর প্রথমবারের মতো দুই দেশ সরাসরি আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ-মুখপাত্র টমি পিগট বৈঠকটিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং জানান, এই সংলাপ দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির জন্য একটি পথ তৈরি করতে পারে।
বৈঠকে উভয় দেশই ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহর প্রভাব কমানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। লেবাননের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা দেশে ‘শক্তির একক নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং বহিরাগত প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নেবে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ‘অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে’ নিষ্ক্রিয় করতে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। তবে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে তারা সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত মাইকেল লেইটার এই আলোচনাটিকে ‘শান্তি ও দায়িত্বশীলতার বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক ব্যবসা বা পর্যটনের জন্য সীমান্ত পারাপারের পর্যায়ে চলে আসবে।
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যুদ্ধ ও উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক সংলাপের নতুন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই ধরনের অগ্রগতি ভঙ্গুর হতে পারে এবং বাস্তব শান্তি প্রতিষ্ঠা নির্ভর করবে সংঘাতের মাত্রা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আন্তরিকতার ওপর।
