ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলা কেন ভারতের জন্য অস্বস্তির

ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলা কেন ভারতের জন্য অস্বস্তির

আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ভারতের জন্য অস্বস্তিকর প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাহাজটি ভারতীয় বন্দর থেকে যৌথ নৌ-মহড়া শেষ করে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ধ্বংস করা হয়।

সিএনএন-এর খবরে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাহাজটিকে ‘আইআরআইএস ডেনা’ হিসেবে শনাক্ত করেছেন। এই ফ্রিগেটটি ভারতের পূর্বাঞ্চলের একটি বন্দর থেকে দেশে ফিরছিল, যেখানে গত মাসে ভারতীয় নৌবাহিনী তাকে স্বাগত জানিয়ে যৌথ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিল। এ ঘটনায় ৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছে।

এ হামলা ঘটে ভারত মহাসাগরে, যা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ছয় দিন ধরে ইরানে হামলা চালাচ্ছে, যার পাল্টা হিসেবে তেহরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করেছে। সিএনএন জানায়, ১৯৪৫ সালের পর এটি প্রথমবার মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো ব্যবহার করে কোনো যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামলা আন্তর্জাতিক জলসীমায় হলেও এটি ভারতের জন্য অস্বস্তিকর। কারণ এটি এমন এক সমুদ্রাঞ্চলে ঘটেছে, যাকে ভারত তার প্রভাব বলয়ের অংশ মনে করে এবং যেখানে ভারত ওই জাহাজের নাবিকদের অভ্যর্থনা জানিয়েছিল। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সুশান্ত সিং বলেন, ‘এটি ভারতের আঞ্চলিক বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য একটি বড় ধাক্কা।’

তিনি আরও বলেন, ‘হামলা এমন একটি এলাকায় ঘটেছে যা কোনো সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্র নয় এবং যে এলাকাটি ভারতীয় প্রভাবের আওতায় পড়ে। এ কারণে ঘটনাটি একটি গুরুতর ‘রেড লাইন ক্রস করেছে।’

ভারতের জন্য বাণিজ্য ও জ্বালানি রুট সুরক্ষা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়া এড়ানো এবং নিজেদের সামুদ্রিক সীমানার কাছাকাছি তৃতীয় পক্ষের সামরিক পদক্ষেপকে স্বাভাবিক হয়ে উঠতে না দেওয়াই প্রধান অগ্রাধিকার। তবে মার্কিন নৌবাহিনীর এই পদক্ষেপ এসব অগ্রাধিকারের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

আরও পড়ুন