সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন দফায় পারমাণবিক চুক্তির আলোচনায় বসছে ইরান। বৃহস্পতিবারের ওই আলোচনায় প্রধান অচলাবস্থার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হলো রকেট-চালিত এক ধরনের অস্ত্র; যা উৎক্ষেপণের সময় নির্দেশিত পথে চললেও এর ফ্লাইটের অধিকাংশ সময় মুক্ত-পতনের পথ অনুসরণ করে। এই ক্ষেপণাস্ত্র নির্দিষ্ট দূরত্বে বিস্ফোরক, জৈব, রাসায়নিক কিংবা সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে পারে। পশ্চিমা বিশ্ব ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য সামরিক হুমকি হিসেবে দেখে, যদিও তেহরান পারমাণবিক বোমা তৈরির অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কাছে সবচেয়ে বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত রয়েছে। ইরান নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখেছে, যা ইসরায়েলে আঘাত হানার জন্য যথেষ্ট। ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি তেহরানের আশপাশে অবস্থিত এবং বিভিন্ন প্রদেশে অন্তত পাঁচটি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র শহর রয়েছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ জানাচ্ছে, ইরানের হাতে ইসরায়েলে আঘাত হানতে সক্ষম বেশ কিছু দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যার মধ্যে সেজিল, ইমাদ, কাদির, শাহাব-৩, খোররামশহর এবং হুভেইজেহ অন্তর্ভুক্ত। ২০২৫ সালে ইরানি সংবাদমাধ্যম ইসনা একটি গ্রাফিক প্রকাশ করেছে, যেখানে ইসরায়েলে পৌঁছাতে সক্ষম ৯টি ক্ষেপণাস্ত্রের কথা বলা হয়েছে।
২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় তেহরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ওই হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে এবং ইসরায়েল ইরানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়। তবে ইরানি কর্মকর্তারা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার দাবি করেছেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইরাক ও সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা, পরিবহন ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের জুনে ইরান প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করে, যা শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম।
