হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে আবার হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে, ইরান বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে পাল্টা হামলা চালায়।
জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোঁড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশে প্রতিহত ও ভূপাতিত করেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, আল-আজরাক এলাকায় লক্ষ্য করে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছিল। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। তবে এগুলোর ধ্বংসাবশেষ কিছু অংশ জর্ডানের ভূখণ্ডে পড়েছে, কিন্তু এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
কুয়েতের সেনাবাহিনীও তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রু’ লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও প্রতিহত করার জন্য সক্রিয় রয়েছে। কুয়েতের সামরিক কর্তৃপক্ষ বলছে, শত্রু লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাদের বাহিনী আল-আজরাক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ইরানের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক হামলা শুরু করে। প্রেসিডেন্টের নির্দেশে এই অভিযান শুরু হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, এই হামলার জবাব ভয়াবহ হবে।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার চেষ্টা করছে এবং তাদের হামলার জবাব দেওয়া হবে। এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের হামলার জবাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে বলে মন্তব্য করেন।
সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের একাধিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই হামলা যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনা ব্যাহত করবে বলে ওয়াশিংটন মনে করে না।
