ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ১০ দফা প্রস্তাবের রূপরেখা প্রকাশ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে আলোচনার কার্যকর ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করলেও হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের উত্থাপিত বিষয়গুলোর সঙ্গে ট্রাম্পের ইঙ্গিতের কোনো মিল নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পরদিন ইরান এই প্রস্তাব সামনে আনে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কর্তৃত্ব পুনর্নিশ্চিত করা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার বজায় রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
ইরানের এসব দাবি গত মাসে মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের পেশ করা ১৫ দফা প্রস্তাবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রস্তাবটি জনসমক্ষে আনা না হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, এতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের মতো স্পর্শকাতর বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, লেবাননে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহসহ সব ফ্রন্টে আঞ্চলিক যুদ্ধের অবসান, মধ্যপ্রাচ্যের সব ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানের ক্ষতিপূরণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার, ইরানের ওপর থেকে সব সরাসরি ও পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রস্তাব বাতিল এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাতিলের দাবি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই উভয় পক্ষের দাবির মধ্যকার বিশাল ব্যবধান যেকোনো স্থায়ী চুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়ে ইরানের দাবিকে বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি সিএনএনকে বলেন, এই চুক্তি যদি ইরানকে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেয়, তবে তা বিশ্বের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, তেহরান যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া চুক্তি পুরোপুরি মানতে ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা শুরু করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই কঠোর শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে এই প্রস্তাবের দফাগুলোই আগামী দিনের আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, ইরানের ওপর হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখার মার্কিন সিদ্ধান্তকে ইসরায়েল সমর্থন করে। তবে এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। নেতানিয়াহুর কার্যালয় আরও বলেছে, তেহরানকে অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে।
