ইরানে হামলার কারণে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের ঝুঁকি বেড়েছে। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরান প্রতিদিন প্রায় ৩.৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ৩ শতাংশ। দেশের কৌশলগত অবস্থানের কারণে এ তেলের বাজারে প্রভাব আরও বাড়ে। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়।
আজ শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মাঝে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। তবে হামলার ফলে কোনো জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া যায়নি। ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরবরাহ ১ শতাংশ কমলে তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বাড়ে।
ইরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উৎপাদিত তেলের ৯০ শতাংশ রপ্তানি করে চীনে। দেশটির প্রধান তেলক্ষেত্রগুলো খুজেস্তান প্রদেশে অবস্থিত। খার্গ দ্বীপ টার্মিনাল ইরানের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র, যেখানে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাবে। কিছু বড় তেল কোম্পানি এবং ট্রেডিং হাউজ ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পরিবহন স্থগিত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামুদ্রিক মিশন সামুদ্রিক নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।
বাজারে ইতিমধ্যে তেলের দাম বেড়েছে এবং গত জুনে দাম বাড়লেও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় তা দ্রুত কমে যায়। তবে বর্তমানে ইরানে হামলার সম্ভাবনা বাজারে চাপ তৈরি করছে।
