ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ২০ বছর এই কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবিতে অনড় রয়েছে।
মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়ে নিজেদের প্রস্তাব রাখেন। তবে দুই দেশের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতবিরোধ বিদ্যমান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি শান্তি চুক্তির পথ তৈরি হতে পারে এবং দ্বিতীয় দফায় আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করবে যেন ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে।’
উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বর্তমানে চরমে রয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার থেকে ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ শুরু হয়েছে।
এদিকে, ইরান বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে এমন একটি পদক্ষেপ হিসেবে ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, এই খেলায় দুজনই অংশ নিতে পারে।’
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে অন্য দেশের জাহাজ চলাচলে তারা কোনো বাধা দেবে না। মঙ্গলবার অন্তত একটি তেলবাহী ট্যাংকার সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে চীনের উদ্দেশে ওই প্রণালি অতিক্রম করেছে।
এদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত নৌ অবরোধকে তাদের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের আরেক ফ্রন্টে, আজ যুক্তরাষ্ট্রে লেবানন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠককে আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
