মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে। এর কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কঠোর অবস্থান। এ অবস্থায় মঙ্গলবার পেন্টাগন জানিয়েছে যে, তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধে ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের ব্যয় ২৯০০ কোটি ডলারেরও বেশি হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি এপ্রিল মাসে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের হিসাবরক্ষণ দায়িত্ব পালনকারী জুলস হার্স্ট মঙ্গলবার মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জানান, এই ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে যন্ত্রপাতি মেরামত, পুনঃস্থাপন এবং চলমান সামরিক অভিযানের খরচ। এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স। তিনি বলেন, জয়েন্ট স্টাফ টিম এবং কম্পট্রোলার টিম এই হিসাবটি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করছে। তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে। ২৯ এপ্রিল পেন্টাগন জানায়, তখন পর্যন্ত যুদ্ধের খরচ ছিল ২৫০০ কোটি ডলার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে যখন চীন সফরে রওনা হন, তখন এই খরচের খবর প্রকাশ হয়। প্রায় এক দশক পর এটি কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের চীন সফর। তিনি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে বাণিজ্য, তাইওয়ান এবং ইরান ইস্যু প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছে পাঠানো ইরানের একটি জবাব প্রত্যাখ্যান করে বলে জানানো হয়। একই সময়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, যুদ্ধবিরতি এখন গুরুতর সংকটের মধ্যে। সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্পের কিছু উপদেষ্টা এখন ইরানে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন- না, আমি মনে করি না আমাদের ইরান বিষয়ে কোনো সাহায্যের দরকার আছে। আমরা এককভাবে বা অন্যভাবে জিতব। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে জিতব অথবা অন্যভাবে। তিনি আরও বলেন, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটির সব সামরিক সক্ষমতা শেষ হয়ে গেছে। তার ভাষায়, ইরানি বন্দরের অবরোধ ১০০ শতাংশ কার্যকর হয়েছে।
তিনি আবারও দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেয়া হবে না। এক পৃথক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না, এ ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান নাকি তাকে বলেছে যে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও চীনেরই ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনা থেকে পারমাণবিক উপাদান উদ্ধার করার দক্ষতা আছে। গত জুনে ট্রাম্প বলেন, ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে সীমিত হয়েছে।
