ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসানের ইঙ্গিত নিয়ে ইসরায়েল ও মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তার লক্ষ্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে পতনের দিকে ঠেলে দেওয়া। তিনি জানান, যুদ্ধ কেবল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু বানানো নয়, বরং বন্ধুত্বপূর্ণ ইরান প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেও।
নেতানিয়াহুর বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েল জনগণকে জানাচ্ছে যে, এই লক্ষ্যে যতটুকু সময় লাগবে, তারা ততটুকু সময় নেবে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, এই যুদ্ধ ইরানের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাত করার ‘জীবনের সেরা সুযোগ’।
এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যুদ্ধের সময়কাল তেহরানই নির্ধারণ করবে এবং তাদের সেনাবাহিনী দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, তিনি তেহরানে হামলার স্থান পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানকার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হতে দেখেছেন।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার জানিয়েছেন, সরকার ইরানের সঙ্গে কোনও ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ চায় না এবং যুদ্ধের সময়কাল নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করবে। তবে যুদ্ধ কখন শেষ হবে সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
কিংস কলেজ লন্ডনের সিকিউরিটি স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শর্তাবলী নির্ধারণের চেষ্টা করবে, কিন্তু তিনি মনে করেন, ইরান তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হবে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর কৌশলগত অর্জনগুলোর সাথে এর সম্পর্ক কেমন হবে।
