মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ফলাফল ও স্থায়িত্ব নির্ভর করছে অস্ত্রের মজুতের ওপর। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের স্থায়িত্বই এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণের জবাবে ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো শনিবার থেকে এক হাজারের বেশি হামলা চালিয়েছে। হামলাগুলো প্রায় ১ হাজার ২০০ মাইল জুড়ে বিস্তৃত বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত হয়েছে। ইরান মূলত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ওপর নির্ভর করছে, কারণ তাদের আধুনিক বিমানবাহিনীর সাথে পাল্লা দেওয়ার শক্তি নেই।
এ সংঘাতটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বিস্তৃত যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের শত শত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, তবে শত্রুপক্ষের গুলিতে তাদের কোনো বিমান ভূপাতিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও অবকাঠামো ধ্বংসের চেষ্টা করছে, যার জন্য তারা উৎক্ষেপণ যন্ত্র, গুদাম ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করছে। সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির পরিচালক স্টেসি পেটিজন জানান, সংঘাতটি এখন ‘এক ধরনের স্যালভো প্রতিযোগিতায়’ পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মূল প্রশ্ন হলো কার কাছে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত বেশি। আর বড় অজানা বিষয় হলো ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার কতটা সমৃদ্ধ।’ মঙ্গলবার আবারও জেরুজালেমে সাইরেন বেজে ওঠে এবং ইরানের নিক্ষেপ করা মিসাইল ধ্বংস করে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর ইস্রায়েলে ১১ জন নিহত হয়েছে এবং শতাধিক আহত হয়েছে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট ৭৮৭ জন নিহতের তথ্য জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান হয়তো তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সংরক্ষণ করতে চাইছে, অথবা তাদের হামলার সক্ষমতা সীমিত।
ইসরায়েলের মিসাইল ডিফেন্স অ্যাডভাইজরি অ্যালায়েন্সের গবেষক তাল ইনবার বলেন, ‘শতভাগ প্রতিরক্ষা বলে কিছু নেই। এটি মূলত এক ধরনের ক্ষয়যুদ্ধ।’
সংযুক্ত আরব আমিরাত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে যাচ্ছে, এমন খবর সঠিক নয়। তারা জানিয়েছে, তাদের কাছে হামলা প্রতিহত করার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে।
এছাড়া, কাতার জানিয়েছে, তারা আকাশে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্ত করে বেশিরভাগই প্রতিহত করেছে।
ওয়াশিংটনের স্টিমসন সেন্টারের সামরিক বিশ্লেষক কেলি গ্রিকো বলেন, ‘উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে অস্ত্রের মজুত জানা কঠিন, তবে তারা দ্রুত ব্যবহার করছে।’
তিনি বলেন, ইরানও বিষয়টি জানে, তাই তারা একসাথে বড় হামলা চালাচ্ছে না। পেটিজন জানান, যদি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হয়তো আক্রমণাত্মক অভিযান বন্ধ করে সমঝোতার পথ খুঁজতে বাধ্য হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্রের বিপুল ব্যয়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গ্রিকোর হিসাব অনুযায়ী, একটি ড্রোন ধ্বংস করতে যে খরচ হয় তা ড্রোন তৈরির খরচের প্রায় পাঁচ গুণ।
