ইরান সংকটের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে ফ্রান্সের অন্তত ৪০০ থেকে ৬০০ কোটি ইউরো ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশের অর্থমন্ত্রী রোল্যান্ড লেসকিউর। তিনি জানিয়েছেন, সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কিছু ব্যয় স্থগিত করার পাশাপাশি নতুন সহায়তা ব্যবস্থা প্রস্তুত করছে।
মঙ্গলবার আরটিএল রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেসকিউর বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে বন্ডের মুনাফার হার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে সরকারের ঋণের ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে এবং যা বাজেটে বাড়তি ৩৬০ কোটি ইউরোর বোঝা তৈরি করেছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর সরকার সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ওপর যে প্রভাব পড়েছে, তা মোকাবিলায় নেওয়া সব পদক্ষেপের ব্যয় বাজেট থেকেই সমন্বয় করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে কিছু ব্যয় স্থগিত করার পরিকল্পনা তুলে ধরবেন, তবে সরাসরি বাজেট কাটছাঁট করার কথা বলেননি।
লেসকিউর জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য নিয়ন্ত্রণে ভোক্তাদের সহায়তায় নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করবেন, বিশেষ করে যারা কাজের প্রয়োজনে যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ফ্রান্সের বাজেট ঘাটতি বর্তমানে ইউরোজোনের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। সরকার বলছে, কেবল অতিপ্রয়োজনীয় এবং নির্দিষ্ট খাতের জন্য সহায়তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এখন পর্যন্ত কেবল পরিবহন, মৎস্য ও কৃষি খাতের জন্য জরুরি জ্বালানি ভর্তুকিতে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিকরা জ্বালানি তেলের ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ ভ্যাট কমানোর দাবি তুলেছেন, যা সরকারের জন্য ব্যয়বহুল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে কট্টর বামপন্থীরা জ্বালানি তেলের দামের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
