ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার আগে ইসরায়েল বছরের পর বছর ধরে তেহরানের বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা, গাড়ি পার্কিং, মোবাইল টাওয়ার এবং দেহরক্ষীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে আসছিলেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন, যেখানে তেহরানের পাস্তুর স্ট্রিট এলাকায় শীর্ষ কর্মকর্তাদের দেহরক্ষীদের গতিবিধি দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, তেহরানের প্রায় সব ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করা ছিল এবং সেখান থেকে তথ্য পাঠানো হতো ইসরায়েলের সার্ভারে।
গোয়েন্দারা উন্নত অ্যালগরিদম ব্যবহার করে দেহরক্ষীদের জীবনযাত্রার একটি মানচিত্র তৈরি করেন, যা তাদের খামেনি ও অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হয়। তেহরানে মোবাইল ফোন টাওয়ারের নিয়ন্ত্রণও ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের হাতে ছিল, যার ফলে নিরাপত্তা সদস্যরা হামলার আগে সতর্কবার্তা পাঠাতে পারেননি।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, তারা খামেনির অফিসে থাকার সময় এবং তার সঙ্গে বৈঠকে কারা যোগ দেবেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানতেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার সকালে খামেনির কার্যালয়ে বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর হামলার কার্যক্রম শুরু হয়।
সাবেক মোসাদ কর্মকর্তা সিমা শাইন জানান, এই অভিযানটি দুই দশকের পরিকল্পনার ফল। ২০০১ সালে তৎকালীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল শ্যারন মোসাদকে ইরানকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণের নির্দেশ দেন। সেই থেকে ইরান ছিল ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্যবস্তু, যার মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নস্যাৎ করা এবং বিজ্ঞানীদের হত্যা অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান খামেনির কমপ্লেক্সে প্রায় ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে, যা ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। খামেনিকে হত্যার বিষয়টি ছিল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যা প্রযুক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি পরিকল্পনার ফল।
