জার্মানি বনাম জার্মানি: যখন পরাক্রমশালী পশ্চিমকে চমকে দিয়েছি

জার্মানি বনাম জার্মানি: যখন পরাক্রমশালী পশ্চিমকে চমকে দিয়েছি

১৯৭৪ সালের ২২ জুন হামবুর্গের ভল্কসপার্কস্তাদিওনে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটে। একই ভূখণ্ডের দুই বিচ্ছিন্ন অংশ পূর্ব জার্মানি ও পশ্চিম জার্মানি প্রথম ও একমাত্রবারের মতো মুখোমুখি হয়। ৬০ হাজার ২০০ দর্শকের সামনে আন্ডারডগ পূর্ব জার্মানি ১-০ গোলে প্রতাপশালী পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে দেয়। ৭৭তম মিনিটে ইয়ুর্গেন স্পারওয়াসারের গোলটি নিছক জয় নয়, বরং ক্যাপিটালিজমের বিরুদ্ধে কমিউনিজমের ক্ষণস্থায়ী জয় হিসেবেও বিবেচিত হয়।

ম্যাচের আগেই দুই দল দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করেছিল, কিন্তু গ্রুপের শীর্ষস্থান ও আদর্শিক লড়াইয়ের কারণে ম্যাচটির তাৎপর্য ছিল আকাশছোঁয়া। পশ্চিম জার্মানির জন্য ড্রই যথেষ্ট ছিল, অন্যদিকে পূর্ব জার্মানির সামনে জয় ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। ম্যাচটি স্নায়ুযুদ্ধের উত্তাপ ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরিতার প্রতিফলন ছিল।

ম্যাচের আগে পশ্চিম জার্মানি দলে বোনাস নিয়ে বিদ্রোহ চলছিল। অধিনায়ক ফ্রাঞ্জ বেকেনবাউয়ার জনপ্রতি ১ লাখ ডিএম বোনাস দাবি করলে শেষ পর্যন্ত ৭০ হাজার ডিএমে রফা হয়। অন্যদিকে, পূর্ব জার্মানি দলের সঙ্গে সার্বক্ষণিক ছায়ার মতো লেগে ছিল স্ট্যাসির এজেন্টরা।

ম্যাচটি প্রথমার্ধে গোলশূন্য ছিল। দ্বিতীয়ার্ধের ৭৮তম মিনিটে পূর্ব জার্মানির বদলি খেলোয়াড় এরিক হামানের দ্রুত ছুটে যাওয়া ও ডায়াগোনাল পাস থেকে স্পারওয়াসার দুর্দান্ত দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোল করেন। স্তব্ধ গ্যালারিতে কেবল পূর্ব জার্মানির দেড় হাজার সমর্থকের উল্লাস শোনা যায়।

ম্যাচ শেষে কড়া রাজনৈতিক নির্দেশনার কারণে জার্সি বদল নিষিদ্ধ থাকলেও ব্রাইটনার ও স্পারওয়াসার টানেলের অন্ধকারে নীরবে জার্সি বদল করেন। সেই জার্সি ২০০২ সালে বন্যায় আক্রান্তদের সাহায্যার্থে নিলামে তোলা হয়।

এই জয় ছিল পূর্ব জার্মানির ফুটবল ইতিহাসের শেষ বড় চমক এবং বিশ্বকাপে তাদের শেষ জয়। অন্যদিকে, এই হার পশ্চিম জার্মানির জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে। বেকেনবাউয়ার পরে স্বীকার করেন, ওই গোলটি না হলে তারা কখনোই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারত না।

আরও পড়ুন