মার্কিন জ্বালানি দফতর পূর্বাভাস দিয়েছে, হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল থাকায় আগামী জুলাই পর্যন্ত বিশ্ববাজারে ক্রুড তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। পূর্বাভাস সংস্থা এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) বলছে, জুন ও জুলাই মাসে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে দাম প্রায় ৯১ ডলারের কাছাকাছি, যা যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের ৭০ ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পূর্বাভাস এমন ধারণার ভিত্তিতে করা হয়েছে যে আগামী সপ্তাহগুলোতে তেল পরিবহন সীমিত থাকবে এবং বৈশ্বিক উৎপাদন ও মজুত কমে যাবে, যা বাজারে চাপ বাড়াতে পারে। মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জেপি মরগানও একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছে, তাদের মতে, হরমুজ প্রণালি খুলে গেলেও জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্রেন্ট তেলের গড় দাম প্রায় ১০৪ ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে।
গ্যাসোলিনের দাম সম্পর্কে ইআইএ জানায়, দাম সামান্য বাড়তে পারে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে গড় দাম হবে ৩.৯০ ডলার এবং ২০২৭ সালে ৩.৬৪ ডলার। আগের পূর্বাভাসে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩.৮৮ এবং ৩.৬২ ডলার।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের বিপরীত, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে। তবে ইআইএ বলছে, জ্বালানির দাম আরও বেশি হতে পারত, কিন্তু বৈশ্বিক চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় দাম নিয়ন্ত্রণে আছে। উচ্চ মূল্য, জ্বালানি সংকট এবং বিভিন্ন অঞ্চলে সাশ্রয়ী ব্যবহার বাড়ায় চাহিদা হ্রাস পেয়েছে।
প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক তেল উৎপাদন সামান্য বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে উৎপাদন ১৩.৬ মিলিয়ন ব্যারেল হলেও তা বেড়ে ১৩.৭ মিলিয়ন ব্যারেল হতে পারে।
