ট্রাম্পের ইরান হামলা: ইসরায়েলের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন

ট্রাম্পের ইরান হামলা: ইসরায়েলের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক পররাষ্ট্রনীতির যুগ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর মে মাসে তিনি বলেছিলেন, ওয়াশিংটন আর অন্য কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা বদলানো বা রাষ্ট্র পুনর্গঠনের মতো ব্যর্থ প্রকল্পে জড়াবে না। তার ভাষ্য ছিল, ‘হস্তক্ষেপকারীরা এমন জটিল সমাজে হস্তক্ষেপ করেছে, যেগুলো তারা নিজেরাই বুঝত না।’

কিন্তু এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক হামলার নির্দেশ দেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ ট্রাম্পের ঘোষিত রাজনৈতিক মতাদর্শ, নীতিগত অবস্থান কিংবা নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়েছে, যার প্রধান সুবিধাভোগী ইসরায়েল।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নেগার মোরতাজাভি জানান, এটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের প্ররোচনায় শুরু করা একটি বেছে নেওয়া যুদ্ধ। তিনি বলেন, দুই দশক ধরে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলার জন্য চাপ দিয়েছে এবং অবশেষে তারা সেটি আদায় করেছে।

২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আগ্রাসনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তখন থেকেই তিনি দাবি করছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে। তবে তেহরান বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়, যা ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ ঘটায়।

এদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি দাবি করেন, ইরান ইতোমধ্যে এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে যা ইউরোপ ও বিদেশে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত সামরিক অভিযানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছিল। তবে মার্কিন জনগণের মধ্যে নতুন সংঘাতে জড়ানোর ক্লান্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২১ শতাংশ আমেরিকান ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সমর্থন করেন।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সেনা উপস্থিত ঘাঁটি ও শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ট্রাম্প স্বীকার করেন, এই সংঘাতে মার্কিন সেনাদের হতাহতের ঝুঁকি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধে এমনটা প্রায়ই ঘটে।’

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাতের পথ থেকে সরে আসার জন্য কূটনৈতিক আলোচনায় যোগদান করে। কিন্তু আলোচনার মাঝপথেই আবার যুদ্ধ শুরু হয়। ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের সভাপতি জামাল আবদি জানান, নেতানিয়াহুর লক্ষ্য সবসময়ই কূটনৈতিক সমাধান ঠেকানো।

ট্রাম্প হামলার ঘোষণা দিতে গিয়ে বলেন, তার লক্ষ্য ইরানকে ‘আমেরিকার মূল জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থকে হুমকি’ দেওয়া থেকে বিরত রাখা। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন—১০ হাজার কিলোমিটার দূরের ইরান কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হুমকি?

কংগ্রেসওম্যান রাশিদা ত্লাইবও একই সুরে বলেন, মার্কিন জনগণ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না। তার ভাষ্য, ‘ট্রাম্প আমেরিকার রাজনৈতিক অভিজাতদের সহিংস পরিকল্পনা এবং ইসরায়েলের বর্ণবাদী সরকারের এজেন্ডা অনুসারে কাজ করছেন।’

আরও পড়ুন