মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা জরুরি শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্তের পর প্রশ্ন উঠেছে, ইতোমধ্যে আদায় করা ১৩৩ বিলিয়ন ডলার শুল্কের কী হবে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে শুল্ক ফেরতের প্রক্রিয়া স্পষ্ট না হওয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইলিনয়স অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জে বি প্রিৎজকার ট্রাম্পের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তার রাজ্যের পরিবারগুলোর জন্য প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার শুল্ক ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। তিনি প্রত্যেক পরিবারের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০ ডলার দাবি করেছেন।
বিভিন্ন কোম্পানি ও আমদানিকারকরাও শুল্ক ফেরতের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তবে প্রক্রিয়াটি বিশৃঙ্খল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প শিবির শুল্ক ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রশাসন বা সুপ্রিম কোর্ট কেউই প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বলেনি।
পেন-হোয়ার্টন বাজেট মডেলের হিসাব অনুযায়ী, শুল্ক ফেরতের পরিমাণ ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে এই অর্থ সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানোর চেয়ে কোম্পানিগুলোর কাছেই যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সাধারণ আমেরিকানরা সরাসরি ক্ষতিপূরণ পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, শুল্ক ফেরতের যেকোনও প্রক্রিয়ায় কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তিনি মনে করেন, আগামী দুই বছর বিষয়টি মামলা-মোকদ্দমায় চলবে এবং পাঁচ বছর আদালতেই থাকবে। বিচারপতি ব্রেট কাভানাফ সতর্ক করে দেন, ফেরত প্রক্রিয়াটি সম্ভবত একেবারে ‘জগাখিচুড়ি’ হয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত শুল্ক হিসেবে ১৩৩ বিলিয়ন ডলার আদায় হয়েছে। আমদানিকারকরা যদি ভুল প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে শুল্ক ফেরতের বিকল্প প্রক্রিয়া সংস্থাটির কাছে আছে। আইনজীবী ডেভ টাউনসেন্ড বলেছেন, সংস্থাটি বিদ্যমান ব্যবস্থার ওপর ভর করে ট্রাম্পের আইইইপিএ শুল্ক ফেরতের উদ্যোগ নিতে পারে।
১৯৯০-এর দশকে আদালত রপ্তানির ওপর আরোপিত হারবার মেইনটেন্যান্স ফি অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রপ্তানিকারকদের ফেরত আবেদনের একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। কিন্তু একসঙ্গে হাজার হাজার আমদানিকারক ও দশ বিলিয়ন ডলারের বেশি অঙ্কের পরিস্থিতি আগে কখনোই আদালত বা মার্কিন কাস্টমসকে সামলাতে হয়নি।
বাণিজ্য-সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত আমদানিকারকরা টাকা ফিরে পেতে পারেন, তবে কিছুদিন পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল থাকবে। ফেরত প্রক্রিয়াটি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন, নিউইয়র্কের বিশেষায়িত কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এবং অন্যান্য নিম্ন আদালতের সমন্বয়ে নির্ধারিত হবে।
আইনজীবী অ্যাডেটুটু বলেন, টাকার অঙ্ক বিশাল হওয়ায় আদালত ও আমদানিকারকদের জন্য কঠিন হবে। সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে ট্রাম্পের শুল্ক প্রত্যাখ্যান করেছে, তাতে কোনও না কোনও ধরনের ফেরতের বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে দেওয়া খুবই কঠিন। আইনজীবী অ্যালেক্সিস আর্লি বলেন, প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়ন করা কঠিন হলেও সরকার অবৈধভাবে আদায় করা ফি রেখে দেওয়ার অধিকার পায় না।
সাবেক মার্কিন বাণিজ্য কর্মকর্তা রায়ান মাজেরাস বলেন, বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফেরতের দাবি সরকার কীভাবে মোকাবিলা করবে, তা বলা কঠিন। প্রক্রিয়াটি সহজ করতে তারা হয়তো একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করতে পারে; যেখানে আমদানিকারকরা ফেরতের দাবি জানাতে পারবেন।
