গত তিন দশক ধরে ইরানকে নিজেদের প্রধান শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে আসছে ইসরাইল। তবে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে ইসরাইলের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান যখন তার সামরিক শক্তি কিছুটা হারাচ্ছে, তখন তুরস্ক অথবা পাকিস্তান নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম মারিভ-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশ্লেষক বোয়াজ গোলানি জানান, ইসরাইলের বিরুদ্ধে নতুন দুটি শক্তি মাথাচাড়া দিচ্ছে। তবে, তিনি সতর্ক করেন যে ইরান যুদ্ধের পর ইসরাইল তুরস্ক বা পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস করবে না।
তুরস্ক ও পাকিস্তান, উভয়ই জনবহুল এবং শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে। এছাড়া, দুটো দেশই সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় তাদের সামরিক শক্তি ইসরাইলের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বর্তমানে সিরিয়া এবং গাজা ইস্যুতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে।
এদিকে, পাকিস্তানের নেতারা ইসরাইলকে মানবতার অভিশাপ হিসেবে উল্লেখ করছেন। ইরানের সাথে সংঘাত শেষ হওয়ার আগেই ইসরাইলকে তুরস্ক বা পাকিস্তান মোকাবেলা করতে হতে পারে। এই অবস্থায় ইসরাইলের নীতিনির্ধারকরা নতুন কৌশল গ্রহণ করতে শুরু করেছেন।
হোয়াইট হাউসের ভিতরেও ইসরাইল সংকটের সমাধান খুঁজছে। নেতানিয়াহু ও তার মিত্ররা মনে করছেন, পাকিস্তান বা তুরস্কের মতো শক্তিশালী শত্রুদের মোকাবেলার একমাত্র উপায় হলো, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করা। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এখনও আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে বিদ্যমান, যা ইসরাইলের জন্য বড় পরীক্ষার কারণ হতে পারে।
