যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি ফরাসি রেস্টুরেন্টে হাফ চিকেনের দাম ৪০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পাঁচ হাজার টাকার সমান। ব্রুকলিনের বিলাসবহুল এলাকায় জিজি’স নামের এই রেস্টুরেন্টটির মালিক হিউগো হাইভারন্যাট। কার্যক্রম শুরুর অল্প দিনের মধ্যেই দাম নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় এক আইনপ্রণেতা ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে ৪০ ডলারের মুরগি নিয়ে আপত্তি জানান, যা নয় হাজারের বেশি লাইক পায়। এর প্রেক্ষাপটে অপর একটি রেস্টুরেন্ট ‘হাফ চিকেন মূল্য সূচক’ নামে একটি তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে ম্যানহাটনের একটি ফরাসি রেস্তোরাঁর ৭৮ ডলার থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ১০ ডলারের হাফ চিকেনের বিস্তারিত জানানো হয়।
হাইভারন্যাট বলেন, ‘খাবারের দাম জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।’ তিনি দাবি করেন, ৪০ ডলারের মধ্যে ২৫ শতাংশই খাবারের উপকরণ জোগাড় করতে খরচ হয়, যার মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্কের আপস্টেট থেকে আনা উচ্চ মানের মুরগি। বাকিটা যায় ভাড়া, বিভিন্ন পরিষেবার বিল, কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য খরচে। বাকি সামান্য মুনাফা দিয়ে তিনি পাঁচ লাখ ডলারের ঋণ পরিশোধ করছেন বলে জানান।
নিউ ইয়র্ক সিটি হসপিট্যালিটি অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু রিজি বলেন, ‘অনেকে রেস্তোরাঁ মুনাফার দেখা পাচ্ছে না। তারা কোনো মতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বিমার কিস্তি, কোভিড মহামারি থেকে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়াতে না পারা এবং ‘ট্রাম্প শুল্কের’ কারণে খাবারের দাম বেড়ে যাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
জিজি’স-এর হেড শেফ টমাস নডেল বলেন, ‘আমরা স্বীকার করছি। ৪০ ডলারের হাফ চিকেন ব্যয়বহুল। কিন্তু এটাই বাস্তবতা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই বাস্তবতার মাঝেই আমরা এখন বাস করছি।’ তিনি মনে করেন, নীতিমালায় পরিবর্তন আনা উচিৎ, যেমন পাইকারি বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের আগে ১০ বছরে নিউইয়র্কে রেস্তোরাঁর মেনুতে খাবারের দাম ৪৩ দশমিক ছয় শতাংশ বেড়েছে, যেখানে সার্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ। নিউইয়র্কের নব নির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি জীবনযাত্রার খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জিতলেও এখনো তেমন সাফল্য দেখাতে পারেননি।
