নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের রসুলপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামে সরকারি সড়কের মাঝখানে পিলার পুঁতে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে একাধিক স্থানে পরিকল্পিতভাবে পিলার বসানো হয়েছে, যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জনদুর্ভোগ। বিশেষ করে জরুরি সেবার গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীবাহী যান চলাচলে মারাত্মক বাধার সৃষ্টি করছে।
এলাকাবাসী জানান, বেগমগঞ্জের জমিদার হাট টু কলিতলা সড়কের খোকা মিয়ার ‘দীঘিরপাড়’ এলাকায়, জয়নাল মেম্বারের বাড়ি থেকে সাহেব উল্ল্যাহ মিয়ার বাড়ির মধ্যবর্তী অংশের রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি সরকারি রাস্তা এবং প্রতিদিন শত শত যানবাহন এই পথে চলাচল করে। হঠাৎ করে রাস্তায় পিলার বসানো সম্পূর্ণ বেআইনি ও জনস্বার্থবিরোধী কাজ বলে মনে করছেন অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ এবং ব্যবসায়ীদেরও প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে— সরকারি রাস্তার মাঝখানে পিলার গেড়ে কিভাবে কেউ নিজ সিদ্ধান্তে এমন কাজ করতে পারে?
এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গোপন চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের মতে, পরিকল্পিতভাবে জনদুর্ভোগ তৈরি করে সরাসরি চাঁদা আদায়ের কৌশল হিসেবে এই বাধা সৃষ্টি করা হতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। অতীতে জমি দখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এ বিষয়ে রসুলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বলেছেন, আমি শুনেছি রাতের অন্ধকারে কারা রাস্তাটি বন্ধ করেছে। কে করেছে নিশ্চিত নই। যারাই করেছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করেছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রশাসনের সহায়তায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত পিলার অপসারণ করে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। জনস্বার্থে এমন বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ চায় সাধারণ মানুষ। তারা জেলা প্রশাসক ও বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
