ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কঠোর আন্তর্জাতিক নজরদারির মধ্যে রয়েছে। এই সময়ে, ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও, আন্তর্জাতিক চাপের মুখোমুখি হয়নি।
গত ১০ মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে দুটি সামরিক অভিযান চালিয়েছে, যেখানে তারা দাবি করে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। ২০২২ সালের জুনে ১২ দিনের সংঘর্ষ এবং ২০২৩ সালের এক মাসব্যাপী লড়াইয়ে ইরানে ২,৬০০-এর বেশি প্রাণহানি হয়েছে।
এই বৈষম্যকে ইরান ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের প্রতি ভিন্ন আচরণ বৈশ্বিক রাজনীতি ও শক্তির ভারসাম্যের প্রতিফলন।
বিশ্লেষকরা ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে বিবেচনা করেন, যদিও দেশটি দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। ২০১৮ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তারা প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ১৯৫০ এর দশকে শুরু হলেও, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তা বিস্তৃত হয়। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের কর্মসূচি শুধুমাত্র বেসামরিক উদ্দেশ্যে। ২০১৫ সালে তারা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে একটি সমঝোতায় যোগ দেয়, যার অধীনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করার শর্ত ছিল।
বর্তমানে, ইরান দাবি করছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না এবং তাদের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি ২০০৩ সালে প্রকাশ্যে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
বিশ্লেষক আহমেদ নাজার বলেন, আন্তর্জাতিক নীতিমালা রাজনৈতিক স্বার্থের ওপর নির্ভর করে কার্যকর হয়। তিনি মনে করেন, যতদিন কৌশলগত স্বার্থ আন্তর্জাতিক আইনকে অগ্রাধিকার দেবে, ততদিন ইসরায়েলের পারমাণবিক অবস্থান বৈশ্বিক আলোচনার বাইরেই থাকবে।
