আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আফগান সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় সূত্রগুলো বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে পরিস্থিতি শান্ত ছিল, তবে মঙ্গলবার রাতে এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, পাকিস্তান কুনার, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে বেসামরিক মানুষের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, এসব হামলায় ১১ শিশু, এক নারী ও এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
খোস্ত প্রদেশের এক কর্মকর্তা জানান, স্পেরা জেলায় একটি বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে ৯ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেশী পাকতিকা প্রদেশের বাসিন্দারা জানান, বারমাল জেলায় আলাদা হামলায় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনই শিশু।
হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ইসলামাবাদের দাবি, তারা শুধুমাত্র পাকিস্তানের ভূখণ্ডে হামলা চালানো জঙ্গিদেরকে লক্ষ্য করে আফগানিস্তানে অভিযান চালাচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছিল দুই দেশের মধ্যে, এরপর কিছুদিন বিরতির পর ফের প্রাণঘাতী সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দুই দেশের সংঘাতে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
২০২১ সালে তালেবান দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলাগুলোর পেছনে আফগানিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠী জড়িত।
অন্যদিকে, আফগান কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পাকিস্তানই শত্রু গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে। গত অক্টোবরে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার পর থেকে দুই দেশের সীমান্ত বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকছে, যা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে প্রভাবিত করছে।
