মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান। বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এর অনুমতি না পেয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারছে না।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ১৯ এপ্রিল রোববার রাতে তুরস্কে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদহকে জাহাজটির নিরাপদ যাত্রার জন্য সহায়তা করতে অনুরোধ করেছেন।
এদিকে, ক্যামেন আইল্যান্ডের পতাকাবাহী আরেকটি জাহাজ সৌদি আরবের জুয়াইমাহ বন্দর থেকে চট্টগ্রামে আসার জন্য ইরানের অনুমতি না পাওয়ায় সেটিও আসতে পারেনি।
গেল পহেলা এপ্রিল ইরানের রাষ্ট্রদূত ঢাকায় বাংলাদেশি জাহাজের জন্য সহায়তার আশ্বাস দিলেও, ইরানি নৌ বাহিনী ও আইআরজিসি দুই দফা চেষ্টা করেও বাংলার জয়যাত্রাকে হরমুজ পার করার অনুমতি দেয়নি। জাহাজটি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বন্দরের কাছে অবস্থান করছে।
বাংলার জয়যাত্রা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মালিকানাধীন এবং এটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবান যাওয়ার উদ্দেশ্যে সার নিয়ে যাত্রা করছিল।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, ইরানের অনুমোদন পেতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের সাথে ইরানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশি জাহাজকে কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে।
সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ সবসময় আক্রমণের সমর্থন করে না, কিন্তু এবারের পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকায় কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতি ইরানকে ক্ষুব্ধ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায়, যার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান সৌদি আরব ও কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালায়। বাংলাদেশ সরকার হামলার নিন্দা জানালেও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নাম উল্লেখ করেনি, যা দেশটির মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমী জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট নয় এবং তারা আশা করছেন বাংলাদেশ সুস্পষ্ট অবস্থান নেবে।
বাংলার জয়যাত্রা গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে ৩৯ হাজার মেট্রিক টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের বন্দরে যায়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হলে জাহাজটি ৮ এপ্রিল হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু আবারও অনুমতি না পাওয়ার কারণে তা সফল হয়নি।
Bengal Shipping Corporation-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আশা করা হচ্ছে দ্রুতই হরমুজ পার হতে জাহাজটির অনুমতি মিলবে।
