বাহরাইনে নিহত বাবার জন্য মেয়ের হৃদয়বিদারক আকুতি

বাহরাইনে নিহত বাবার জন্য মেয়ের হৃদয়বিদারক আকুতি

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনে চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মো. তারেক নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) ভোরে বাহরাইনের একটি ড্রাইডক শিপইয়ার্ডে কর্তব্যরত অবস্থায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. তারেক চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের পাহাড়ের গো মসজিদ বাড়ির সাইদুল হকের ছেলে। তিনি দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন। সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীতে তার নিজ বাসায় গিয়ে দেখা যায় এক শোকাতুর ও আবেগঘন পরিবেশ।

বাবার মৃত্যুর খবর যেন কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না তার কলেজপড়ুয়া একমাত্র মেয়ে তাসনিম তামান্না। অশ্রুভেজা চোখে তিনি বলেন, ‘বাবা গত বছর সেখানে হজ করেছেন, তাই কথা ছিল এবার রোজার শেষের দিকে অথবা কোরবানির ঈদে দেশে ফিরবেন।’

‘২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাবা দেশে এসেছিলেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আবার আসার কথা ছিল।’ তামান্না আরও বলেন, ‘কাল ঠিক এই সময়ে বাবা ভিডিও কলে আমার সাথে কথা বলছিলেন। আমি যে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হব, তা কখনও কল্পনা করিনি। আমার মতো কষ্ট যেন আর কাউকে পেতে না হয়। আজ আমি কীভাবে বিশ্বাস করব যে আমার বাবা আর নেই!’

বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রইস হাসান সরোয়ার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, সোমবার ভোরে বাহরাইনের মুহাররাক দ্বীপের সালমান শিল্পাঞ্চল এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেটি মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা হয়। ধ্বংসপ্রাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় টুকরো সরাসরি নিচে থাকা তারেকের ওপর পড়ে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সন্দ্বীপের এই প্রবাসী শ্রমিকের অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মরদেহ দ্রুত দেশে আনার বিষয়ে দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে সিলেটের বড়লেখার বাসিন্দা সালেহ আহমেদ আছেন। তিনি নাগরিক স্থাপনায় আকাশ থেকে নেমে আসা ধ্বংসাবশেষে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া, বাহরাইনে আরও একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন