ভারতের মোট তেল আমদানির ৫৫ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, যার পরিমাণ দৈনিক প্রায় ২৭ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল। ২০২২ সালের শেষভাগ থেকে ওয়াশিংটনের চাপের কারণে রুশ তেল আমদানি কমানোয় ভারতের এই নির্ভরতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তেলমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি গত মাসে জানান, ভারতের হাতে ৭৪ দিনের জ্বালানি মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে, তবে বর্তমানে মজুতের পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ দিনের জন্যই কার্যকর। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভারতের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, অপর্যাপ্ত মজুত ব্যবস্থার কারণে ভারত সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়তে পারে।
পণ্য গবেষণা সংস্থা আইসিআইএসের জ্বালানি ও রিফাইনিং বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার জানিয়েছেন, চীনের হাতে অন্তত ছয় মাসের অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে, যা ভারতের মজুতের তুলনায় অনেক বেশি।
ভারত সম্ভাব্য এই সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছে। সোমবার কেন্দ্রীয় তেল মন্ত্রণালয় এক পোস্টে জানিয়েছে, সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় রুশ তেল আমদানিতে ২৫ শতাংশ ট্যারিফ ছাড় দেবে কিনা, সে ব্যাপারে হোয়াইট হাউস থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে।
