মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছে জার্মানি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছে জার্মানি

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে জার্মানি। বার্লিন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর রেডিওর এক প্রতিবেদনে জার্মান সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আলোচনায় রয়েছে বিমান হামলায় সীমিত অংশগ্রহণ, সামরিক লজিস্টিক সহায়তা এবং আকাশপথে সহযোগিতার মতো বিষয়। তবে সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।

জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং দেশটির পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তাঁরা স্পষ্ট করেছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই এখনো অগ্রাধিকার পাচ্ছে এবং সামরিক পদক্ষেপ হবে শেষ বিকল্প।

এর আগে, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র এক যৌথ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের ও মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন হলে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তুত। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানি ঐতিহ্যগতভাবে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াতে সতর্ক অবস্থান নেয়। তবে ন্যাটো জোটের সদস্য হিসেবে এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হওয়ায় আন্তর্জাতিক চাপ ও মিত্রদের অবস্থান বার্লিনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন