যুক্তরাষ্ট্রে ৪৭ বিলিয়ন ডলারের গাঁজা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে, যেখানে গাঁজা ব্যবহার করে উৎপাদিত কিছু পণ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হচ্ছে। মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের মাদক নীতিতে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় পরিবর্তন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গাঁজা বৈধ করে তুলবে না, তবে এটি শিল্পকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। বর্তমানে প্রায় সব অঙ্গরাজ্য চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য গাঁজাকে বৈধ করেছে এবং অনেক অঙ্গরাজ্যে বিনোদনমূলক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বৈধতা রয়েছে।
রাজ্য-নিয়ন্ত্রিত চিকিৎসায় ব্যবহৃত গাঁজাজাত পণ্যগুলোকে এখন অত্যন্ত আসক্তিকর মাদকের তালিকা থেকে সরিয়ে এমন শ্রেণীতে নেওয়া হবে যেখানে অপব্যবহারের ঝুঁকি কম। মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) অনুমোদিত গাঁজাজাত পণ্যেরও একই শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত হবে।
ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানান, সরকার গাঁজার সব ধরনের ব্যবহারের ক্ষেত্রেই কম বিপজ্জনক হিসেবে পুনঃশ্রেণিবিন্যাসের উদ্যোগ দ্রুত নেবে। এই পদক্ষেপ গবেষণার বাধা কমাবে এবং কোম্পানিগুলোর জন্য অর্থায়ন পাওয়া সহজ করবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডিসেম্বরের নির্বাহী আদেশের পর এই সিদ্ধান্ত এসেছে, যেখানে বিচার বিভাগকে গাঁজার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এই সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত ক্যানাবিস কোম্পানিগুলোর শেয়ার ৬ থেকে ১৩ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল, তবে পরে তা আবার কমে যায়।
কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২৪টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে বিনোদনমূলক গাঁজা বৈধ এবং ৪০টি অঙ্গরাজ্যে চিকিৎসায় ব্যবহার পুরোপুরি বৈধ।
গাঁজা যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অবৈধ মাদক। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (সিডিসি) অনুযায়ী, প্রতি পাঁচজনের একজন বছরে অন্তত একবার এটি ব্যবহার করেন।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ২৯ জুন থেকে গাঁজার পুনঃশ্রেণিবিন্যাস নিয়ে প্রমাণ ও বিশেষজ্ঞ মতামত সংগ্রহ শুরু হবে। তবে সমালোচকরা বলছেন, গাঁজা বৈধ হলে কিশোরদের মধ্যে ব্যবহার বাড়তে পারে এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
