যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা ভেস্তে গেল কেন?

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা ভেস্তে গেল কেন?

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। প্রায় একদিনব্যাপী ম্যারাথন বৈঠকের পরও দুই পক্ষের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য দূর করা সম্ভব হয়নি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যর্থতা দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস, কৌশলগত দ্বন্দ্ব এবং জটিল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার ফল। আলোচনা মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কেন্দ্রিত ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন না করার জন্য চাপ দেয়, কিন্তু ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে ‘অধিকার’ হিসেবে দাবি করে এবং তা সীমিত করতে অস্বীকৃতি জানায়।

অর্থনৈতিক প্রশ্নও আলোচনাকে জটিল করে তোলে। ইরান চায় বিদেশে জব্দ থাকা তাদের সম্পদ মুক্ত করা হোক এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক। যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার কথা বললেও তাৎক্ষণিক ছাড় দিতে রাজি হয়নি।

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যেখানে ইরান তার প্রভাব বজায় রাখতে চায় এবং যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল অবাধ রাখতে চায়। দুই পক্ষের পারস্পরিক অভিযোগও আলোচনা ব্যাহত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান ‘মূল প্রতিশ্রুতি’ দিতে ব্যর্থ হয়েছে, অপরদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অতিরিক্ত শর্ত’ চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতও আলোচনায় প্রভাব ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বন্দ্ব কেবল একটি ইস্যুর নয় বরং বহুস্তরীয়। পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং কৌশলগত অবিশ্বাস—এই চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে তাদের বিরোধ।

এখনও আশা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে নতুন কোনো উদ্যোগের মাধ্যমে দুই পক্ষ আবার আলোচনা শুরু করতে পারে। তবে ইসলামাবাদের এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে।

আরও পড়ুন