ইরানে হামলার মধ্যে মিশর-গাজার সীমান্তবর্তী রাফা ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। এতে গাজার বাসিন্দারা নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েছেন। শুক্রবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানে সম্মিলিত হামলার ফলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ৪৮ নেতা নিহত হয়েছেন। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য রাফা ক্রসিং পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সীমান্তপথটি গাজায় ত্রাণ প্রবেশের একমাত্র স্থলপথ এবং গুরুতর অসুস্থ ফিলিস্তিনিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় গাজা ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে।
গত মাসে দীর্ঘ সময় পর রাফা ক্রসিং খুলে দেয়া হলে সীমিত আকারে গাজার কিছু বাসিন্দা গাজা থেকে বের হতে সক্ষম হন। তবে আবারও বন্ধ হওয়ায় তারা মানবিক সংকটে পড়েছেন।
জাতিসংঘ ফেব্রুয়ারিতে অভিযোগ করে যে, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও গাজার বাসিন্দাদের জীবন বাঁচানোর জন্য পাঠানো ত্রাণ প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ইসরায়েলের বিধিনিষেধের কারণে গাজায় খাদ্য, ওষুধ এবং পুনর্নির্মাণের সামগ্রী সংকটে রয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করে, যুদ্ধবিরতির শুরুতেই গাজার প্রয়োজনের তুলনায় চার গুণের বেশি খাবার সেখানে প্রবেশ করেছে। তবে তাদের এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
কোগ্যাট নামের সংস্থা জানিয়েছে, রাফা ক্রসিং বন্ধ হলেও গাজার মানবিক পরিস্থিতির অবনতি হবে না। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কোগ্যাট ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি অংশ এবং তারা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বেসামরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। সমালোচকরা বলেন, এই সংস্থা মূলত নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যস্ত থাকে।
