রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বড় ভূমিকা রাখছে ইরানি শাহেদ ড্রোন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বড় ভূমিকা রাখছে ইরানি শাহেদ ড্রোন

ইরানের নকশা করা শাহেদ ড্রোন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। এসব ড্রোন জ্যামিং-প্রতিরোধী প্রযুক্তি ও অন্যান্য সক্ষমতার কারণে প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন।

ব্রিটেনের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক থমাস উইথিংটন বলেছেন, শাহেদ ড্রোন আঘাত হানার সময় জিপিএসের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে নিজেদের অবস্থান নির্ণয় করে। এরপর সাধারণত রিসিভার বন্ধ করে দেয়, ফলে তারা ইনয়ার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়।

উইথিংটন এএফপিকে জানান, জিপিএস ব্যবহার না করে এসব ড্রোন জ্যামিং এড়িয়ে চলে এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ঠিক আগে জিপিএস পুনরায় সংযোগ স্থাপন করতে পারে।

রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য শাহেদ ধাঁচের ড্রোন তৈরি করছে, যেগুলোতে আধুনিক অ্যান্টেনা ইন্টারফারেন্স প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টড হামফ্রেস বলেন, সাধারণ বাজারে পাওয়া যায় এমন যন্ত্রাংশ দিয়ে শাহেদ ড্রোন তৈরি করেছে ইরান, তবে এতে মার্কিন সামরিক জিপিএস সরঞ্জামের অনেক সক্ষমতা রয়েছে।

বর্তমানে এসব ড্রোন প্রতিহত করতে অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক যুদ্ধসরঞ্জাম প্রয়োজন। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইগনাট জানান, শাহেদ ড্রোনকে আপগ্রেড করা হয়েছে।

শাহেদ ড্রোন প্লাস্টিক ও ফাইবারগ্লাসের মতো হালকা রাডার-শোষণকারী উপকরণ দিয়ে তৈরি, যা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরান একাধিক পজিশনিং সিস্টেম ব্যবহার করছে, যার ফলে ড্রোনগুলোর জন্য জ্যামিং এড়ানো সহজ হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনী শাহেদ ড্রোনকে ভূপাতিত করার চেষ্টা করছে। ইউক্রেনের সামরিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৫২টি ড্রোন ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের মাধ্যমে অকেজো করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়েছেন যে, এসব ড্রোনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইলেকট্রনিক এবং প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যৌথভাবে ব্যবহার করা হয়।

আরও পড়ুন