শি ও পুতিনের মধ্যে কিম জং উনকে নিয়ে টানাটানি

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সম্প্রতি রাশিয়া সফর করেছেন, যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। কিমের ট্রেনকে ‘চলন্ত দুর্গ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কিমের রাশিয়া যাওয়ার পর, রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন উত্তর কোরিয়া সফর করেন জুন মাসে।

২০২৫ সালে কিম চীনের ‘বিজয় দিবস’ উদযাপনে অংশ নিতে বেইজিং গিয়েছিলেন, যেখানে পুতিনসহ বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি ছিল। ১৯৫০ সালে শুরু হওয়া কোরীয় যুদ্ধের পর কোরিয়া উপদ্বীপটি উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বিভক্ত হয়। উত্তর কোরিয়া চীন ও রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে।

চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের পিয়ংইয়ং সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শির সফরের মাধ্যমে চীন উত্তর কোরিয়ার ওপর প্রভাব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল উল্লেখ করেন, চীন এখন উত্তর কোরিয়াকে পরমাণুমুক্ত করার পরিবর্তে তা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করতে চাইছে।

চীনের রাষ্ট্রপতি শি ৮ জুন পিয়ংইয়ং সফর করেন। এই সফরের মাধ্যমে বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নের সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন এবং উত্তর কোরিয়া অর্থনৈতিক সমন্বয় ও কৌশলগত যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

শি জিনপিংয়ের সফরকে ‘বিরল’ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, কারণ তিনি সাত বছর পর উত্তর কোরিয়ায় গিয়েছেন। এই সফরের ফলে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর চীনের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে একই সাথে, পিয়ংইয়ং রাশিয়ার ওপরও নির্ভরশীলতা বাড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, উত্তর কোরিয়া কৌশলগতভাবে দুই মিত্র দেশ চীন ও রাশিয়া থেকে সুবিধা নিতে চায়, কিন্তু পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক দিক নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

আরও পড়ুন