সুনামগঞ্জে দুই দিন ধরে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে হাওরপারের কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাত থেকে রোববার সকালের দিকে জেলার দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ঝড়ো হাওয়ার সাথে শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। কয়েক মিনিটের তীব্র শিলাবৃষ্টিতে অনেক জায়গায় ধানখেতের গাছ নুয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
চলতি মৌসুমে জেলার ১৩৭ হাওরে প্রায় ১০ লাখ কৃষক ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করেছেন। মাসখানেক পর নির্ধারিত সময়ে ধান গোলায় তোলার কথা থাকলেও বৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টির কারণে কৃষকদের মধ্যে চরম দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
হাওরপারের অনেক কৃষক নিজেদের জমিতে গিয়ে ধানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, শিলাবৃষ্টি বাড়লে ধানের শিষ ভেঙে যেতে পারে এবং গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়তে পারে।
দিরাই উপজেলার মাইট্টাপুর গ্রামের কৃষক মুতালিব উল্লা বলেন, “সারা বছর আমরা এই বোরো ধানের অপেক্ষায় থাকি। অনেক কষ্ট করে চাষ করেছি। এখন যদি শিলাবৃষ্টি বেশি হয় তাহলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।”
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কালিপুর গ্রামের কৃষক শফিক আহমেদ জানান, “ধানের শিষ আসতে শুরু করেছে, এই সময় ঝড় বা শিলাবৃষ্টি হলে ধান মাটিতে পড়ে যায়। তখন ফলন অনেক কমে যাবে। তাই খুব দুশ্চিন্তায় আছি।”
জামালগঞ্জ উপজেলার বড় ঘাগটিয়া গ্রামের কৃষক লতিফ মিয়া বলেন, “নিজের কোনো জমি নাই, অন্যের জমিতে আবাদ করেছি। গত রাত ও আজকে সকালে যে পরিমাণ শিলাবৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।”
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক ঢাকা পোস্টকে জানান, জেলার পাঁচটি উপজেলায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ধানের তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “শিলাবৃষ্টি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ধানের ক্ষতি হতে পারে। কৃষি বিভাগ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
