সৌদি-আমিরাত সম্পর্ক: শীতল যুদ্ধের নতুন অধ্যায়

সৌদি-আমিরাত সম্পর্ক: শীতল যুদ্ধের নতুন অধ্যায়

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্প্রতি একটি দীর্ঘ চিঠি পাঠিয়েছেন আরব আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তাহনুন বিন জায়েদের কাছে। চিঠিতে রিয়াদের ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে, যা মূলত সৌদি আরবের প্রতিবেশী যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান ও ইয়েমেনের রণাঙ্গণে আমিরাতের ভূমিকার কারণে।

মিডল ইস্ট মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব চায় সুদানে গৃহযুদ্ধ বন্ধ হোক এবং আমিরাত যেন সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে। এছাড়াও, সৌদি আরব চায় আমিরাত যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করুক।

গত বছর ডিসেম্বরের শুরুতে আমিরাত-সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) যোদ্ধারা ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল দখল করে নেয়। এর ফলে সৌদি আরব ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে, যা দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত করে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে এ বৈরিতাকে মধ্যপ্রাচ্যে ‘শীতল যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সৌদি এবং আমিরাতের মধ্যে প্রতিযোগিতা এখন প্রকাশ্যে চলে আসছে, এমনকি প্রকাশ্য সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, সৌদি আরব যখন ইয়েমেনে সকল পক্ষের মধ্যে সরকার গঠন করতে চাইছে, তখন আমিরাত দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে সখ্যতা বাড়াচ্ছে, যা সৌদি স্বার্থের বিরুদ্ধে যাচ্ছে।

সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে দ্বন্দ্বের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু। পরবর্তীতে যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান ও সোমালিয়ায় একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইরত গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনও দ্বন্দ্বের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং আমিরাতের ভারত ও ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

বিশ্লেষকরা সতর্কতা নির্দেশ করেছেন যে, এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ বদলে যাচ্ছে এবং ইউরোপের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আরও পড়ুন