সৌদি-ইসরাইলের চাপের মুখে ট্রাম্পের ইরানে হামলা

সৌদি-ইসরাইলের চাপের মুখে ট্রাম্পের ইরানে হামলা

ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই আগ্রাসনে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে। গণমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সৌদি আরব ও ইসরাইল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে হামলার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই মিত্র দেশ কয়েক সপ্তাহের লবিংয়ের পর ট্রাম্পকে রাজি করায়। আয়াতুল্লাহ খামেনিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সৌদি-ইসরাইলের পরামর্শে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনা সম্পর্কে চারজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে ইরানে হামলার জন্য রাজি করান।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানকে অস্তিত্বের হুমকি মনে করে আসছেন এবং মার্কিন হামলার জন্য দীর্ঘদিন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ ট্রাম্প ইরানের সামরিক বাহিনীর ওপর বিমান হামলার নির্দেশ দেন। হামলার প্রথম ঘণ্টাতেই খামেনি ও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মৃত্যু ঘটে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি কোনো হুমকির আশঙ্কা ছিল না। তবুও এ হামলা চালানো হয়েছে, যা গত কয়েক দশকের মার্কিন নীতির থেকে বড় বিচ্যুতি।

সৌদি আরব চাপ প্রয়োগ করছিল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছিলেন। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানে হামলার জন্য সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করার ঘোষণা দিলেও, তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, হামলা না করলে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

রিয়াদ এক ক্ষুব্ধ বিবৃতিতে ইরানের পাল্টা হামলার নিন্দা জানায় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার মতে, উইটকফ ও কুশনার গত বৃহস্পতিবার জেনেভায় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে তেহরান তাদের সঙ্গে টালবাহানা করছে বলে ধারণা করা হয়।

আরও পড়ুন