ইরানের বিস্ফোরকবোঝাই নৌযান ইরাকের জলসীমায় দুটি জ্বালানি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় জাহাজ দুটিতে আগুন ধরে যায় এবং একজন নাবিক নিহত হন। একই সময়ে, উপসাগরে আরও চারটি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার গভীর রাতে ইরাকের কাছে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী জাহাজগুলি হামলার শিকার হয়। জাহাজগুলো হলো সেফসি বিষ্ণু ও জেফিরোস, যেগুলো ইরাক থেকে জ্বালানি বোঝাই করে ছিল। বন্দরের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, জেফিরোস মাল্টার পতাকাবাহী জাহাজ।
নিহত নাবিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ইরাকের উদ্ধারকারী দল এখনও নিখোঁজ নাবিকদের খুঁজছে। ইরাকের রাষ্ট্রায়ত্ত জেনারেল কোম্পানি ফর পোর্টস অব ইরাকের (জিসিপিআই) মহাপরিচালক ফারহান আল-ফারতুসি জানিয়েছেন, হামলার পর তেলবন্দরগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বাগদাদের আল জাজিরার প্রতিবেদক মাহমুদ আবদেলওয়াহেদ জানিয়েছেন, কর্মকর্তারা এই হামলাকে নাশকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেন, এটি ইরাকের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
রয়টার্স জানিয়েছে, বিস্ফোরকবোঝাই চালকবিহীন নৌযান ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে, ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে, যেখানে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস প্রবাহিত হয়।
হরমুজ প্রণালিতে প্রায় এক ডজন মাইন বসানোর খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ইরানের ২৮টি মাইন পাতা নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ভোরে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি থেকে ৩৫ নটিক্যাল মাইল উত্তরে একটি কনটেইনার জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করে। তবে জাহাজের ক্রুরা নিরাপদে আছেন।
থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী শুকনো পণ্যবাহী জাহাজ ময়ূরী নারী হামলার শিকার হয়ে আগুন লাগে এবং তিনজন নাবিক নিখোঁজ হয়েছে। বাকি ২০ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, হামলায় ইরানি যোদ্ধাদের গুলির কথা স্বীকার করেছে, যা সম্ভবত প্রথমবারের মতো সরাসরি হামলার ঘটনা।
অন্যদিকে, জাপানের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ওয়ান ম্যাজেস্টিও সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সকল নাবিক নিরাপদে আছেন।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সামরিক এসকর্ট দেওয়ার জন্য মার্কিন নৌবাহিনী প্রায় প্রতিদিনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে, কারণ হামলার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
