ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য একটি রেড লাইন বা অলঙ্ঘনীয় সীমা। কৌশলগত এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক দাবির প্রেক্ষিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। সোমবার (৪ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বার্তায় জেনারেল হাতামি লিখেন, ইরানি জাতির সন্তানরা পারস্য উপসাগরের অতন্দ্র প্রহরী। এই জলপথের প্রতিটি ইঞ্চি আমাদের সংকল্পের আওতাধীন।
তিনি জানান, রাডার ফাঁকি দিয়ে অত্যন্ত গোপনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলো হরমুজ প্রণালির সন্নিকটে আসার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ইরানি বাহিনী তার অগ্নিঝরা জবাব দিয়েছে। সেনাপ্রধান আরও যোগ করেন, সেই সময় আকাশজুড়ে অবস্থান নিয়েছিল আমাদের ক্রুজ মিসাইল এবং ঘাতক ড্রোন। ইরানের নৌবাহিনী সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বেশ কিছু মার্কিন যুদ্ধজাহাজ তাদের অবস্থান গোপন রাখতে ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে ডার্ক মোড-এ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করে। ইরানি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা দেয়া সত্ত্বেও সেগুলো অগ্রাহ্য করায় ইরানের পক্ষ থেকে ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন ও রকেট নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে তাদের পিছু হঠাতে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ প্রশস্ত করতে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই সংঘাতের ঘটনা ঘটল। মূলত গত ফেব্রুয়ারি থেকে ওই অঞ্চলে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ইরান এই জলপথের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। ইরানের এই কঠোর অবস্থানের কারণে গত দুই মাস ধরে জলপথের দুই পাশে প্রায় ৩,০০০ বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ২০,০০০ নাবিক আটকা পড়ে আছেন। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ইরান কেবল সেইসব জাহাজকেই চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে, যারা ইরানের ঘোষিত নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে চলছে এবং তেহরানের দৃষ্টিতে যাদের উদ্দেশ্য সন্দেহজনক নয়। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় সবার জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়টি নির্ভর করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আচরণের ওপর। যদি তারা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করে এবং ইরানি সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেয়, তবেই ইরান এই পথ উন্মুক্ত করতে প্রস্তুত।
