হরমুজ প্রণালির ব্লকেড, বিশ্ব অর্থনীতি সংকটে

হরমুজ প্রণালির ব্লকেড, বিশ্ব অর্থনীতি সংকটে

সম্প্রতি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে, যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন সংকটের সূচনা করেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করার মার্কিন দাবিতে সাড়া না দেওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।

আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে সর্বাত্মক নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন। এর ফলে ইরানের তেল রপ্তানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার লক্ষ্যে মার্কিন সরকার চাপ সৃষ্টি করছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে আর্থিক বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

হরমুজ প্রণালি, যা ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দ্য স্ট্রেইট টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, এর সবচেয়ে সরু অংশটি মাত্র ২৪ মাইল চওড়া। নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, সাধারণ সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩৫ থেকে ১৫০টি জাহাজ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করত। কিন্তু বর্তমানে ইরান এই প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে প্রায় ৩,২০০ জাহাজ আটকা পড়েছে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, আজ থেকে হরমুজ প্রণালিতে ব্লকেড কার্যকর হবে, তবে এটি শুধুমাত্র ইরানি বন্দরের জাহাজগুলোর ওপর প্রযোজ্য হবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, একটি ব্লকেড কার্যকর করতে যথেষ্ট সামরিক সক্ষমতা এবং নিরপেক্ষ দেশের জাহাজের প্রতি বৈষম্যহীনতা থাকতে হয়।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ব্লকেড কার্যকর করা অত্যন্ত জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। ইরান বিভিন্ন ধরনের মাইন ব্যবহার করেছে, যা নিষ্ক্রিয় করা কঠিন। এছাড়াও, ব্লকেডের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ভয়াবহ শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই অবরোধের ফলে ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ হলে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

এদিকে, চীন ও ভারত এই ব্লকেডের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর রাশিয়া এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে।

আরও পড়ুন