হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে, যা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। পারস্য উপসাগরের সঙ্গে সংযোগকারী এই পথ দিয়েই গত বছর বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি হয়েছে।
কেপলার ইনসাইট ও উড ম্যাককেঞ্জির তথ্যমতে, গত বছর বাংলাদেশ ৫০ শতাংশের বেশি এলএনজি সংগ্রহ করেছে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রায় ৩৬ লাখ টন এলএনজি আমদানি করার পরিকল্পনা করেছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক কাতার, বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করছে। কেপলার ইনসাইটের তথ্যে দেখা যায়, চীন ও ভারত এলএনজি আমদানিতে শীর্ষে থাকলেও বাংলাদেশ ও পাকিস্তানও তালিকার ওপরের দিকে রয়েছে।
আরব উপদ্বীপের অন্য একটি বড় উৎপাদনকারী দেশ ওমান হরমুজ প্রণালির বাইরে থেকে এলএনজি রপ্তানি করে, তবে কাতারের উৎপাদনের তুলনায় ওমানের উৎপাদন নগণ্য।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে ১৫ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ কমে যাবে, যা বাংলাদেশসহ অন্যান্য এশীয় ক্রেতাদের জন্য গুরুতর সংকট সৃষ্টি করবে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এলএনজি অপরিহার্য। হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বিশ্ববাজারে বিকল্প সরবরাহের সুযোগ খুবই কম।
