গুম ও মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যায় আইনগত অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ শিশির মনির।
তিনি বলেন, সরকারের দেওয়া ব্যাখ্যা ‘আইনগতভাবে সঠিক নয়’। আজ সোমবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও চিফ হুইপের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শিশির মনির জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে গুম ‘ক্রাইম এগেইনস্ট হিউম্যানিটি’-এর অংশ হলেও এটি বিচারযোগ্য হতে ‘ওয়াইডস্প্রেড’ ও ‘সিস্টেমেটিক’ হতে হয়। একক গুমের ঘটনা এই আইনের আওতায় পড়ে না। তিনি মানবাধিকার কমিশন আইনে তদন্ত, সময়সীমা ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে সরকারের বক্তব্যও খণ্ডন করেন।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ধারায় ৩০ দিনের সময়সীমা, তদন্ত প্রক্রিয়া ও ক্ষতিপূরণের বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। গণভোট অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, সরকার নিজেই একে ‘ফ্যাক্টাম ভ্যালিড’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং বাস্তবায়নের দায়ও সরকারের।
এছাড়া, বিচারকদের শোকজ নোটিশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি উল্লেখ করেন, যে আইনের আওতায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে, সেটি ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে, তাই এ ধরনের নোটিশ ‘আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য’।
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথক সচিবালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় জনআকাঙ্ক্ষা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
মোমেন অভিযোগ করেন যে, স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশে অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগ সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। তিনি বলেন, বিএনপির সমালোচনা করে যে, তারা আন্দোলনের কথা বললেও তা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি সতর্ক করেন যে, জনগণ যদি অধিকার আদায়ে সংসদের ওপর আস্থা হারিয়ে রাজপথে নামে, তার দায় সরকার ও সরকারদলীয় সদস্যদের নিতে হবে।
