ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সাক্ষাৎকার: ফেডারেশনের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সাক্ষাৎকার: ফেডারেশনের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি

নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণের পর সচিবালয়ে কর্মতৎপরতা চলছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ঢাকা পোস্টের সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার আরাফাত জোবায়েরকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি খেলোয়াড় থেকে ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ দায়িত্বে আসার অনুভূতি প্রকাশ করেন।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি তৃণমূল থেকে জাতীয় দলের খেলোয়াড় হিসেবে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়রা যেন তার সমসাময়িকদের সমস্যায় না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করতে চান। তার লক্ষ্য খেলোয়াড়, কোচ, সংগঠক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া।

প্রধানমন্ত্রীর আস্থাকে তিনি অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে নিজেকে উজাড় করে দিতে চান বলে জানান। প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়ানুরাগী এবং নির্বাচনের ইশতেহারে ক্রীড়ার বিষয়টি উল্লেখ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ তাকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে চেয়েছে বলে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ২০০৩ সালের সাফ ট্রফি ফেডারেশনে না থাকার বিষয়টি দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি এ ধরনের অর্জন সংরক্ষণের উদ্যোগ নেবেন।

ক্রীড়া মেধাপাচার রোধে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বেতন ও আর্থিক কাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান। অবসর নেওয়ার পর খেলোয়াড়দের কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

সব খেলাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। চতুর্থ শ্রেণি থেকে পাঁচটি খেলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবেন বলে জানান।

ফেডারেশন স্বাধীনভাবে কাজ করবে, আবার জবাবদিহি করতে হবে বলে তিনি মতামত দেন। ফেডারেশনগুলোর কাজে সহায়তা করা হবে, তবে খেলার ফলাফল মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তিনি পরিকল্পনাহীন বিষয়গুলো খুঁজে বের করে একটি সিস্টেমে আনতে চান। ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সামনে এগোনোর কথা বলেন।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের স্বকীয়তা অর্জনে নীতিমালা সুদৃঢ় করা প্রয়োজন বলে মনে করেন। তিনি ক্রীড়াঙ্গনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান। নারী ক্রীড়াবিদদের সুরক্ষা ও সম্মান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ফেডারেশনগুলোর কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান। গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থায় বিশ্বাসী বলে উল্লেখ করেন। আগামী পাঁচ বছর পর ক্রীড়াঙ্গনকে একটি শক্ত অবস্থানে রেখে যেতে চান তিনি।

আরও পড়ুন