খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের অনন্য রেকর্ডগুলো

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের অনন্য রেকর্ডগুলো

বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া ছিলেন এক ব্যতিক্রমী নাম। চার দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি দেখেছেন ক্ষমতার উত্থান-পতন, কারাবাস ও প্রবল রাজনৈতিক বৈরিতা। সদ্য প্রয়াত এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী এমন কিছু রাজনৈতিক রেকর্ড ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত রেখে গেছেন, যা তাকে দেশের সমসাময়িক সব রাজনীতিকের চেয়ে আলাদা উচ্চতায় স্থাপন করেছে।

তিনি জীবনে কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনটি নির্বাচনে পাঁচটি আসনে জয়লাভ করেন। এই বিষয়টি বাংলাদেশি রাজনীতিতে একটি বিরল সাফল্য। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনি পাঁচটি করে মোট ১৫টি আসনে দাঁড়িয়ে বিজয়ী হন।

খালেদা জিয়া ছয়টি ভিন্ন জেলা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, যা তার জনপ্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র নারী, যিনি ‘ফার্স্ট লেডি’ ও পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন।

১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি দ্বাদশ সংশোধনী পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরিয়ে আনেন। নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে তার সরকারের সিদ্ধান্তসমূহ বৈপ্লবিক ছিল; যা মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটায়।

২০০১ সালে তার সরকার প্রথমবারের মতো ‘মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন করে। ২০০২ সালে পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করে পরিবেশ সুরক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

৯২ সালে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে তিনি ওই সংস্থার প্রথম নারী চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচন পর ত্রয়োদশ সংশোধনী পাস করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, নির্বাচনি সাফল্য ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার বেগম খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্থায়ী আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।

আরও পড়ুন