২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘গুপ্ত’ শব্দটি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। শব্দটির আভিধানিক অর্থ গোপন বা লুকানো হলেও, বর্তমানে এটি বিশেষ একটি গোষ্ঠীর দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক কৌশলকে নির্দেশ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে বিরোধীদের সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে ‘গুপ্ত’ শব্দটি উচ্চারণ করেছেন, যদিও তিনি কোনো দলের নাম উল্লেখ করেননি।
গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে একটি গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লেখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে, যা এই আলোচনাকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশে আন্ডারগ্রাউন্ড বা গোপন তৎপরতা নতুন নয়। ১৯৭৪ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
জামায়াতে ইসলামী, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ হওয়ার পর গোপনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হয়েছে। বর্তমানে ‘গুপ্ত’ শব্দটি ইসলামী ছাত্রশিবিরকে উদ্দেশ্য করে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ছাত্রশিবিরের সদস্যদের আসল পরিচয় সামনে আসার পর ‘গুপ্ত’ শব্দটি রাজনৈতিক বিদ্রূপের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের আধিপত্যের সময় টিকে থাকার জন্য ছাত্রশিবিরের সদস্যরা ‘কৌশলগত ছদ্মবেশ’ নেওয়ার দাবি করেছে। তবে সমালোচকরা এটিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ্যে আসে। ছাত্রলীগের সঙ্গে তাদের সদস্যদের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা হয়।
২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েম সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। তার একটি পুরোনো ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি ‘নৌকা’ স্লোগান দিচ্ছেন। ফরহাদও ছাত্রলীগের পদধারী ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের সভাপতি আবরার ফারাবীর ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আলোচনা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ‘গুপ্ত’ শক্তির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে সংঘর্ষের ঘটনার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়।
সবমিলিয়ে, সংগঠনগুলোর বিরোধ ও নেতৃত্বের লড়াইয়ে ‘গুপ্ত’ তকমাটি বর্তমানে শক্তিশালী রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে।
